
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায় তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।সরকার শান্তিপূর্ণভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। কিন্তু দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে কেউ দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে বহিরাগতরা ঢুকতে না পারে সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে। সেটা যে দলই হোক, যে ধর্মেরই হোক। বাইরের কোনো লোককে এক্সেস দেওয়া উচিত না। এই কালচারটা ডেভেলপ করতে হবে, এটা আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে করতে হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আল ফোরকান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দীন এমপি, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সমস্যা কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক দেরিতে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারকে যেহেতু উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে তাই এই দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না।
তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছে। জ্বালানির অভাবে বিভিন্ন দেশে কলকারখানা বন্ধ হয়েছে, কারফিউ জারি হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশে এ অবস্থা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধতার কথাও জানান তিনি।মন্ত্রী আরো বলেন, ‘চিটাগং ইউনিভার্সিটিতে আমি অনেকদিন পরে এসেছি। ঢুকতে ঢুকতে আমার তো মনে হচ্ছে আই অ্যাম ইন নেচার। আমি প্রকৃতির ভেতরে ঢুকছি, মনে হচ্ছে আমি এখানে একটা হলিডে রিসোর্টে ঢুকে গেছি, কোনো একটা উডের মধ্যে, বনের মধ্যে। অপূর্ব!’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত এলাকা ও বনভূমির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এত বড় এলাকা, এরকম একটা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের মতো একটা ছোট দেশে, এত বিশাল এলাকা- তার মধ্যে কত বড় একটা ফরেস্ট! আমি ভিসিকে জিজ্ঞেস করেছি, আপনাদের এখানে ওয়াইল্ডলাইফ কী কী আছে? বন্যপ্রাণী কি আছে এখানে? পাখি কতগুলো আছে? আপনারা কি এগুলো ক্যাটালগ করেছেন? ক্যাটালগ করেন আপনারা। ইট ইজ সামথিং আনইউজুয়াল ইন বাংলাদেশ সারাউন্ডিং।

তিনি বলেন,প্রাকৃতিক এই পরিবেশের যথাযথ ব্যবহার না হলে তা দুর্ভাগ্যজনক হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ‘তবে এরকম একটা পরিবেশে যদি আমরা সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে না পারি, এটাও আমাদের দুর্ভাগ্য’ বলেন তিনি।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও উন্নত পর্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্যকে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, আমি ভিসিকে বলছি, আপনি চট্টগ্রাম ইউনিভার্সিটিকে নেক্সট লেভেলে এলিভেট করার জন্য একটা প্রোগ্রাম নেন। আই উইল সাপোর্ট ইউ।
বিশেষ অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ তথা ‘রংধনু জাতি’ গঠনের প্রত্যয়ে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে । তিনি বলেন, বিভাজন নয়; ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনৈতিক দর্শন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ একটি ‘রংধনু জাতি’ গঠনের ধারণা বহন করে, যার বাস্তব উদাহরণ হাটহাজারী ও বায়েজিদ এলাকা।
তিনি বলেন,তরুণ প্রজন্মই দেশের চালিকাশক্তি , তাদের স্বপ্নই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। এজন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ ও সঠিক দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শ্রী বিজন কান্তি সরকার সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরা শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, অদুল কান্তি চৌধুরীকে অনেক ধন্যবাদ। তাঁর অনুদানে ভালো কাজ হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি সবাইকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। সকল চিন্তার সম্মিলন হচ্ছে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, আজকের এ অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অবগত আছেন এবং সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এ দেশের সনাতনীদের চাওয়া হচ্ছে, নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে বসবাস করা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সনাতনীদের নিরাপত্তা ও সম্মানসহ সকল নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান। তিনি প্রধান অতিথি মাননীয় মন্ত্রী, বিশেষ অতিথি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাগত জানান এবং বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আজকে একটি ঐতিহাসিক দিন। এ মন্দির শুধু পাথুরে ঘর নয়, এটি ঐক্যের প্রতীক, এটি সম্প্রীতির প্রতীক। এ মন্দির ভালোভাবে পরিচালনার জন্য আমরা সব ধরনের উদ্যােগ গ্রহণ করবো। উপাচার্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত সকল অতিথিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
মন্দির উদ্বোধনী আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমীন, চাকসুর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধূরী এবং অদুল-অনিতা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অদুল কান্তি চৌধুরী ও কো-চেয়ারম্যান অনিতা চৌধুরীও সহ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।







