
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ ও জিএজিই (GAGE) এর যৌথ উদ্যোগে ‘Adolescent and Young People’s Wellbeing in Bangladesh’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী এক আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু হয়েছে। আজ সোমবার (১১ মে ২০২৬) সকাল ৯.৩০টায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে কনফারেন্সের উদ্বোধনী সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসাকি ওয়াতাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, আজকের টপিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্মের সমস্যাসমূহ উল্লেখ করে এগুলোর সমাধান অতি জরুরি। আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম বেশিরভাগ দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ভুগে। এর মূল কারণ আর্থিক অনটন, চাকরি না থাকা এবং সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব। শহরের পাশাপাশি গ্রামেও এ সমস্যা প্রকট। এসন নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এসেও অনেকে দুশ্চিন্তায় ভোগে। এসব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
উপাচার্য বলেন, কনফারেন্সে তরুণদের দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষার পাশাপাশি তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের গবেষণামূলক কাজে আরও বেশি তরুণদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।আমাদের দেশে তরুণ প্রজন্মের সমস্যা সমাধানে উদ্যােগ গ্রহণ অতীব জরুরি। কারণ তরুণ প্রজন্মের হাত ধরে পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে। আশা করি, এ কনফারেন্সের অনেক ধারণা উঠে আসবে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজে আসবে। মাননীয় উপাচার্য কনফারেন্সে আগত বিদেশি প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথিসহ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং কনফারেন্সের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের ওপর। বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে তাদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি। এ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স থেকে প্রাপ্ত সুপারিশমালা তরুণ প্রজন্মের উপকারে আসবে এবং সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। মাননীয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন সবাইকে স্বাগত জানান। তিনি এমন আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, আজকের টপিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী। কিশোর-কিশোরী, তরুণ প্রজন্ম একটা জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ প্রজন্ম টেকসই জাতির উন্নয়ন সম্ভব না। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে ভাবতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সারাহ বেয়ার্ড। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ এবং জিএজিই (GAGE) এর পরিচালক ড. নিকোলা জোন্স। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আলা উদ্দিন এবং অনুষ্ঠান সমন্বয় করেন অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. খাদিজা মিতু।
কনফারেন্সে অন্যান্য বক্তারা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কিশোর-কিশোরীদের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, পুষ্টি, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান বিষয়ে আলোকপাত করেন। ১১ ও ১২ মে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মোট একাধিক সেশনে তরুণদের উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। সম্মেলনটি ইউকে এইড (UKaid) এবং ওডিআই গ্লোবাল (ODI Global) এর সহযোগিতায় আয়োজিত হয়। দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে দেশি-বিদেশি গবেষক, চবির ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিশেষজ্ঞ, চবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, গবেষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।







