নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালে নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালের টিকিট কাটল বাংলাদেশ। গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে একসময় পিছিয়ে পড়েও অলিম্পিক গোল আর শেষ মুহূর্তের চমৎকার ফিনিশিংয়ে জয় ছিনিয়ে নিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই জয়ের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে বাংলাদেশের চার বছরের গৌরবময় রাজত্ব টিকে রইল, আর এক ধাপ দূরে রইল শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে নেপাল। শুরুতেই নেপালের আক্রমণের চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়ে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ম্যাচের ২৩ মিনিটে কর্নার থেকে গোল করে নেপালকে এগিয়ে নেন গীতা রানা। দীপা শাহির দারুণ ক্রসে কেবল পায়ের টোকা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে গোল শোধের জন্য মরিয়া আক্রমণ তো দূরে থাক, উল্টো আফঈদাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামাল দিতে। ব্যবধান ২-০ হতে পারত ম্যাচের ৩৬ মিনিটে, তবে প্রীতি রাজের দূরপাল্লার শটটি গোলরক্ষক মিলির হাতে লেগে পোস্টে প্রতিহত হলে কোনোমতে রক্ষা পায় বাংলাদেশ।

যখন মনে হচ্ছিল প্রথমার্ধে বাংলাদেশ আর ম্যাচে ফিরতে পারছে না, ঠিক তখনই মাঠে দেখা গেল জাদুকরী এক মুহূর্ত। পুরো ম্যাচ জুড়ে প্রায় নিষ্ক্রিয় থাকা ঋতুপর্ণা চাকমা প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সরাসরি কর্নার থেকে এক অবিশ্বাস্য গোল করে বসেন। ফুটবল পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘অলিম্পিক গোল’। সরাসরি কর্নার থেকে বল জালে জড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে ১-১ সমতায় ফেরান এবং এই গোলের পর মাঠে নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে সাবিনারা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অবশ্য বাংলাদেশ আবারও গোল হজমের হাত থেকে অল্পের জন্য বেঁচে যায়। নেপালের রেখা বাংলাদেশের গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল ফাঁকা জালের দিকে ঠেলে দিলেও তা পোস্টে লেগে দিক পরিবর্তন করে। এরপর দুই দলই পালাক্রমে সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ম্যাচের ৬৯ মিনিটে নেপালের সারু লিম্বুর একটি বিপজ্জনক বাঁকানো শট গোলপোস্টের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। এর ঠিক মিনিটখানেক আগে নেপালের আরেকটি আক্রমণ দক্ষতার সাথে রুখে দেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি।

ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার ১২ মিনিট আগে অর্থাৎ ৭৮ মিনিটে লিড নেওয়ার সবচেয়ে সুবর্ণ সুযোগটি পেয়েছিলেন সাগরিকা। কিন্তু তাঁর নেওয়া জোরালো শটটি নেপাল অধিনায়ক তথা গোলরক্ষক সুব্বা লাফিয়ে উঠে দারুণভাবে ঘুষি মেরে ফিরিয়ে দেন। তবে সেই সুযোগ মিসের হতাশা কাটাতে বেশি সময় নেননি সাগরিকা। ম্যাচের ৮১ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে বল পান তিনি। পেছনে নেপালের দুজন ডিফেন্ডার লেগে থাকলেও তাঁদের ফাঁকি দিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বল জালে জড়িয়ে দেন সাগরিকা।

সাগরিকার এই জয়সূচক গোলেই উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ শিবির। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধান ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ এবং টানা তৃতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে ফাইনালের মঞ্চে পা রাখল লাল-সবুজ বাহিনী।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email