
চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘একদিকে যেমন সহজে অর্থ সংগ্রহ করা যাবে, অন্যদিকে প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্বও নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের উচ্চ সুদের ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশের পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে।’
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় আয়োজিত চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের অর্থ সংগ্রহের জন্য পুঁজিবাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আপনাদের প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্ব থাকবে। খরচ কমাতে কেন প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে গিয়ে উচ্চ সুদে ঋণ নেবেন? আমাদের পুঁজিবাজারের গতি এখন ঊর্ধ্বমুখী, এটি খুব ভালো করছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিল্পায়নের সঙ্গে দক্ষ জনশক্তি তৈরিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতকে আনোয়ারা বা চট্টগ্রামে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, এমন কেন্দ্র গড়ে উঠলে চীনা ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য দক্ষ কর্মী তৈরি হবে এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘সিইআইজেডে বর্তমানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হলেও অবকাঠামোগত সবকিছু বিবেচনায় নিলে এ বিনিয়োগ ১ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে। এই প্রকল্পে এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। একই সঙ্গে এখানে সাপ্লাই চেইন ও বিভিন্ন ধরনের সেবা খাতও গড়ে উঠবে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য সরকার নির্ধারণ করেছে, সিইআইজেড সেই লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। সরকারের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাতেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণে জোর দিচ্ছে। বাংলাদেশ এখন ব্যবসার জন্য ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন উন্মুক্ত। বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো নীতিগত পরিবর্তন সরকার করতে প্রস্তুত।
সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিস চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এ সেবার কথা বলা হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে এবার সরকার এটি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্জিত মুনাফা ও মূলধন সহজে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও সহজ করা হচ্ছে, যা অতীতে বড় একটি বাধা ছিল।’
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করাকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শিল্পায়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান, শ্রমিক কল্যাণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ একটি কল্যাণরাষ্ট্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বক্তব্য দেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম এবং এম এম ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।







