
চট্টগ্রাম -১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক ঐতিহাসিক অধ্যায় যা নতুন প্রজন্মের মাঝে ধারণ ও লালন করতে হবে।
সাঈদ আল নোমান আজ চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জুলাই শহিদরা বিশেষভাবে চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফারুক, ফজলে রাব্বি, ফরহাদ, হৃদয় চন্দ্র তাড়ুয়া ও তানভীরের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
সাঈদ আল নোমান বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং আগামী প্রজন্মের জন্য দেশপ্রেম, সাহস ও আত্মত্যাগের এক অনন্য প্রেরণা। তাঁদের আদর্শ ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সাঈদ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি আলোকিত মানুষ ও জ্ঞান সৃষ্টির কেন্দ্র। গবেষণা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেমের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে এর গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি মিউজিয়ামকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের অনন্য মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এ মিউজিয়াম পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান।
সাঈদ আল নোমান আরো বলেন, দেশের প্রয়োজন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তিনি সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন। সেইসাথে তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, সততা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুতফুর রহমান সভাপতির বক্তৃতায় বলেন,জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রেখে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে ।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ, উন্নয়ন কর্মসূচি এবং সামাজিক সুরক্ষামূলক কার্যক্রম উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষা, গবেষণা ও সুশাসনের বিকল্প নেই।
আলোচনা সভায় সিভাসুর ছাত্র কল্যাণ সংসদ পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রাশেদুল আলম স্বাগত বক্তৃতা করেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু)-র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুল হক বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।







