৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলা হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

শনিবার চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমি মেয়র হওয়ার পর চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। ১১টি খেলার মাঠ ইনশাআল্লাহ করে ফেলেছি। শিগগির জাম্বুরি খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হবে। আরো কিছু মাঠ করার জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচার চালানোর বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

রডের বদলে বাঁশ দেওয়া ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের মিথ্যা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে শনিবার সকালে সরেজমিনে মহসিন কলেজ মাঠ পরিদর্শন করেন মেয়র। পরিদর্শনকালে তিনি অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে পুরো মাঠ ঘুরে দেখেন, তবে অভিযোগের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী দাবিদার এইচ এম শাহীন নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পে ‘রডের বদলে বাঁশ’ ব্যবহারের বানোয়াট অভিযোগ করেন। সেখানে অন্যায়ভাবে সিটি কর্পোরেশন ও মেয়রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার পরপরই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অভিযোগকারীকে সাথে নিয়ে মাঠের প্রতিটি অংশ তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়, কিন্তু রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

প্রকল্পের অর্থায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রসঙ্গে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করে মেয়র স্পষ্ট করেন, এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের নয়, বরং বিশ্বব্যাংকের (World Bank) ফান্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ঠিকাদার নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় তদারকি বিশ্বব্যাংক নিজেই করে থাকে। এ কাজে সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক লেনদেন বা ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে এবং যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে মাঠের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করে এই বরাদ্দ এনেছি।

অভিযোগে সিকিউরিটি গার্ডের বরাত দিয়ে নিম্নমানের কাজের অভিযোগের বিষয়টি ঘটনাস্থলেই খণ্ডন করা হয়। মেয়র সরাসরি উপস্থিত সিকিউরিটি গার্ডকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানান। ফলে অভিযোগকারীর বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট প্রমাণিত হয়।

মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা তরুণদের জন্য ফ্লাডলাইট, সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে, টয়লেট সুবিধা ও চিলড্রেন পার্কসহ একটি আধুনিক খেলার মাঠ তৈরি করছি। কিন্তু একটি বিশেষ মহল অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভালো কাজের ওপর কালিমালিপ্ত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার প্রমাণ দিতে পারলে আমি এখনই ঠিকাদারের এগ্রিমেন্ট বাতিল করে শতভাগ টাকা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চসিক ও মেয়রের সম্মানহানি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মিথ্যা প্রচারণাকারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, আমাদের সারাদেশে অর্ধশতাধিক প্রজেক্ট সুনামের সাথে চলছে। ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ দেওয়ার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারে, তবে আমরা সম্পূর্ণ ঢালাই নতুন করে নিজ খরচে করে দেব।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল রবিবার প্রকল্প এলাকাটি জরুরি পরিদর্শনে আসছেন বলে জানান মেয়র। নগরবাসীকে অপপ্রচারে কান না দিয়ে নগর উন্নয়নের ইতিবাচক ধারায় সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদার এবং সিটি কর্পোরেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email