
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজসমূহে অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে গম, মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি অথবা ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহার প্রতিরোধে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।চট্টগ্রামে আগে চাক্তাই খাতুনগন্জে বিভিন্ন পন্য মজুদ করে কৃত্রিম সংকট করতো। এখন কর্ণফুলী চ্যানেলে অবৈধ মজুদদারি ও ভাসমান গুদাম জাত করে নতুন বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অন্য তম ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দেশের খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতা বজায় রাখতে বন্দরের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নির্দেশক্রমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের মাধ্যমে বহির্নোঙ্গরের অবস্থানরত জাহাজসমূহের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যাতে কোনো অসাধু ব্যক্তি বা চক্র পণ্যবাহী জাহাজ অথবা নোঙর করে রেখে বাজারে পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে। একই সঙ্গে সন্দেহজনক বা অনিয়মপূর্ণ কার্যক্রম শনাক্ত হলে তা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ এবং জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজসমূহে বন্দর ত্যাগের পর নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানো/খালাসের বিধান রয়েছে, তা যথাযথভাবে প্রতিপালন হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও আজকের অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পণ্য পরিবহন ও খালাসের ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব, পণ্য আটকে রাখা কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ যাতে না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তদুপরি, বহির্নোঙ্গরে অবস্থানরত লাইটার জাহাজ ও মাদারশিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে চালকদের প্রযোজ্য নিয়ম ও নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার জন্য অবহিত করার পাশাপাশি জাহাজে লোডকৃত পণ্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথভাবে খালাস ও পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
যৌথ অভিযানে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙ্গর এলাকায় তন্ত্রীর অধিক টোশন/বোট তল্লাশি ও যাচাই করা হয়েছে। এ সময় মূল নেভিগেশনাল চ্যানেলে অবৈধভাবে মাছ ধরার জাল স্থাপন করে জাহাজ চলাচলে হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগে ২৮ জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আটক করা হয় এবং এর মধ্য থেকে ২৪ জন আটককৃত ব্যক্তিদের এক মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে নেভিগেশনাল চ্যানেলে স্থাপিত অবৈধ জাল স্থাপন প্রতিরোধে স্থানীয়দের নিকট লিফলেট বিতরণ এবং তাদেরকে সচেতন করা হয়েছে। এছাড়া, নেভিগেশনাল সেফটি বজায় রাখা এবং মূল রেভিগেশনাল চ্যানেল ও শিপিং চ্যানেলে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আজ রেডার চ্যানেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে VHF Channel 12 Channel 16-এ সংশ্লিষ্ট নৌযান ও নাবিকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
উক্ত অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পাইলট ভেসেল, বাংলাদেশ নৌবাহিনী হতে ১টি জাহাজ ও ২টি বোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড হতে ১টি জাহাজ ও ২টি বোট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। বন্দর ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বিত নজরদারি, টহল ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের স্বার্থে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দেশের প্রধান সামুদ্রিক প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অবৈধভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ অথবা অবৈধ ‘ভাসমান গুদাম’ তৈরি, পণ্য আটকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ জাল স্থাপন কিংবা জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দেশের স্বার্থ, জনস্বার্থ এবং নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এধরনের অভিযান ভবিষ্যতে ও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে।







