,

অন্যের লাইসেন্স জালিয়াতি: বিপুল পরিমাণ তামাক ও মাদকসদৃশ পণ্য জব্দ

অন্যের লাইসেন্স জালিয়াতি: বিপুল পরিমাণ তামাক ও মাদকসদৃশ পণ্য জব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি বৈধ কোম্পানির নাম ও ব্যবসায়িক তথ্য জালিয়াতি করে আনা একটি বড়সড় পণ্যচালান আটকে দিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। কায়িক পরীক্ষায় ওই চালান থেকে বিপুল পরিমাণ তামাকজাত পণ্য, বিভিন্ন রঙের মাদকসদৃশ সন্দেহজনক গুঁড়ো পদার্থ এবং প্রিন্টেড ক্যাটালগের বদলে প্রায় নয় টনের বেশি স্ক্র্যাপ পেপার (রদ্দি কাগজ) জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাঞ্চল্যকর এই জালিয়াতির তথ্য প্রকাশ করা হয়।
রাড্ডা ক্লিনিক দখলমুক্ত ঘোষণা, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই চলছে চিকিৎসাসেবা

কাস্টমসের নথিপত্র অনুযায়ী, ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ নামের একটি জাহাজে করে ভারতের কলকাতা থেকে বিতর্কিত এই চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি গত ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। পরবর্তীতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সিআইআইডির কর্মকর্তারা চালানটির কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করেন।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, দুটি পৃথক বিল অব লেডিংয়ের মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়েছিল। প্রথমটিতে পণ্যের ঘোষণায় ছিল ‘পান মসলা এবং জর্দা (চুইং টোব্যাকো)’। নথিতে ৪৭৩টি প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্যের কথা উল্লেখ থাকলেও, কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ কেজি তামাক বা তামাকজাতীয় পণ্য পাওয়া যায়।

এর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন রঙের পাউডার জাতীয় পদার্থ, যা বাহ্যিকভাবে ‘মাদকদ্রব্য’ বলে জোরালো সন্দেহ করছে এনবিআর। তবে রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া এসব পদার্থে মাদকের বা নিষিদ্ধ কোনো উপাদান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’। নথিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে মোট ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্য দেখানো হলেও, কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজ থেকে বের হয়ে আসে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন স্ক্র্যাপ বা পরিত্যক্ত কাগজ। ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে প্রাপ্ত পণ্যের এমন আকাশ-পাতাল অসামঞ্জস্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কাগজপত্রে এই পুরো চালানটির আমদানিকারক হিসেবে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ওই কোম্পানির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে এনবিআর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন যে, তিনি বা তার কোম্পানি এই আমদানির বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত এবং চালানটির সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

কোনো সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র তার কোম্পানির লাইসেন্স ও ব্যবসায়িক নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি করে এই অবৈধ চালানটি এনেছে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।