,

চবিতে নিলস ও এলইবি-এর উদ্যােগে ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত

চবিতে নিলস ও এলইবি-এর উদ্যােগে ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত
চবিতে নিলস ও এলইবি-এর উদ্যােগে ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ এসেম্বলির উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দ্যা ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল ল স্টুডেন্টস (নিলস) ও লিগ্যাল ইমপাওয়ামেন্ট বাংলাদেশ (এলইবি) এর যৌথ উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ২য় ন্যাশনাল মডেল লেজিসলেটিভ এসেম্বলি ২০২৬-এর উদ্বোধনী সেশন আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১১টায় চবি আইন অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধন সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের মাননীয় বিচারক জাফর আহমদ। অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি জাফর আহমদ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে প্রচলিত আইনগুলোর অনেকগুলোই সময়োপযোগী ও সংশোধন করা প্রয়োজন—এ বিষয়ে দ্বিমতের সুযোগ নেই। তবে বিদ্যমান আইনগুলোর যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে বাড়ানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি। বাংলাদেশের আইনব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিকাশের এখনও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের হয়রানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন শুধু ক্ষমতাবানদের জন্য নয়; গ্রামের খেটে খাওয়া কৃষক, দরিদ্র ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের জন্যও আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যাতে আইনের জটিলতা ব্যবহার করে একজন দরিদ্র মানুষের সম্পদ বা অধিকার কেড়ে নিতে না পারেন, সে বিষয়ে আইনজীবী, বিচারক ও আইনপ্রণেতাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উদ্বোধকের বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছে। মানব পাচার, পরিবেশ সংরক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন আইন ও নীতিগত বিষয়ে তারা আলোচনা করবে। বাংলাদেশে এ ধরনের আয়োজন এটি দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক পরিবেশ ও শিক্ষাবান্ধব ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যাতে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন একাডেমিক, সহশিক্ষা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, সে পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন চবি আইন বিভাগের প্রফেসর এ.বি.এম আবু নোমান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ শামসুল হক, সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট জিয়াউল হক, এডভোকেট মুহাম্মদ মহিউদ্দিন, ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল ইয়াসির। প্রোগ্রাম সমন্বয় করেন নিলস-বাংলাদেশ এর সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ।

“ভিশনকে তরুণ মানসের মাধ্যমে নীতিতে রূপান্তর” এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অধিবেশনে দেশজুড়ে একঝাঁক শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি, আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।