
চট্টগ্রামের রাউজানে হালদা নদীর ভাঙন রোধ ও নদীতীরবর্তী মানুষের বাড়িঘর রক্ষায় ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালীঘোনা ২ নম্বর ওয়ার্ডে হালদা নদীর ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ৬০ মিটার জিওব্যাগ স্থাপনের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ভাঙন রোধ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাউজান থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর মিয়াজী।
প্রকল্প উদ্বোধনকালে আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, হালদা নদীর ভাঙনে কোতোয়ালীঘোনা এলাকার বহু পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। নদীভাঙন রোধ করে মানুষের বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ স্থাপন করে হালদার ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে শুধু ৬০ মিটার কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। স্থানীয় জনগণের বাড়িঘর ও সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী পর্যায়ে আরও প্রায় ২০০ মিটার ভাঙন প্রতিরোধ কাজের বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, হালদা শুধু একটি নদী নয়, রাউজানের মানুষের জীবন-জীবিকা ও পরিবেশের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নদীকে রক্ষা করার পাশাপাশি নদীতীরবর্তী মানুষের জানমাল ও বসতভিটা রক্ষায় সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। ভাঙন প্রতিরোধের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড’র উপসহকারী প্রকৌশলী আলো বিকাশ চাকমা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক চৌধুরী, রাউজান পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আনিসুজ্জামান সোহেল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি তসলিম উদ্দিন, রাউজান উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন আজম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. একরাম মিয়া, উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সেকান্দর হিরো, উপজেলা যুবদল নেতা মো. আজিজ, সাবেক ইউপি সদস্য ফয়জুল আজিজ, আইয়ুব মেম্বার, নুরুল ইসলাম, শাহাজান চৌধুরী, মো. তাজউদ্দীন চৌধুরী, মো. আকবর, মো. সেলিম, মো. ফরহাদ, মো. কাশেম, নুরুদ্দিন বাবু, মো. ইকবাল, আব্দুল কাদের, মো. কাজল, মো. হাসেম, মো. খোকন, মো. মুছা, হারুন মেম্বার, মো. সোলাইমান সিকদার, রুবেল, ফরিদ, সোয়াইব সিকদার, মো. বাবুল, মো. সালাউদ্দিন, মো. জাহাঙ্গীর, মো. আফাজ, মো. ইয়াসিন, সুমন ও মো. বেলাল।
এ সময় কোতোয়ালীঘোনা সিকদারপাড়া সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জহুর মিয়া মিয়াজী, মো. আবুল মনসুর, সালাউদ্দীন মিয়াজী, মো. আলাউদ্দিন মিয়া, মোরশেদ মিয়াজী, রাসেল মিয়াজী ও মহিউদ্দিন মিয়াজী।
স্থানীয়রা জানান, হালদা নদীর ভাঙনে কোতোয়ালীঘোনা এলাকায় বসতবাড়ি ও আবাদি জমি হুমকির মুখে রয়েছে। ৬০ লাখ টাকার বরাদ্দে ৬০ মিটার জিওব্যাগ স্থাপনের পাশাপাশি আরও ২০০ মিটার ভাঙন প্রতিরোধ কাজ বাস্তবায়িত হলে নদীতীরবর্তী মানুষের বসতভিটা ও সম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের সুরক্ষা তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।







