এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন আপসহীন ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা দূরে রেখে ঐক্য ও ভালোবাসার মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের বার্তা দিয়েছেন। তিনি শুধু গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক নন, বরং বাংলাদেশের আধুনিক বাজারভিত্তিক অর্থনীতির অন্যতম রূপকার। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় তিনি এক স্থায়ী ছাপ রেখে গেছেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের গ্রান্ড বলরুমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশ এবং ব্যবসায়ীদের আরও ১৭টি সংগঠন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি বেগম খালেদা জিয়া আমাদের কাছে সত্যিকারার্থেই একজন আইকন। এই নেত্রীর মধ্যে সাধারণ মানুষগুলো বাংলাদেশকে খুঁজে পেয়েছিল। তাদের ভবিষ্যৎকে দেখতে পেয়েছিল।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ভিত গড়েছিলেন। এক্ষেত্রে তার অবিচল নিষ্ঠা, দূরদর্শিতা আর যুগান্তকারী দিকনির্দেশনা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেটখাতে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে নিয়েছিলেন। তিনি ধনী-দরিদ্র কারও কথা ভুলে যাননি। সবাইকে নিয়ে সকলের সামগ্রিক উন্নয়নের পথে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ আর আমাদের মাঠে নেই। তিনি ফিরে আসবেন না। কিন্তু তার যে কাজ, তার যে রেখে যাওয়া স্বপ্ন, সেগুলোকে আমাদের বাস্তবায়িত করতে হবে। এ সময় খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা কবি আল মাহমুদের কবিতা ‘তোমার মুখের দিকে চেয়ে আছে বাংলার ভোরের আকাশ’ আবৃতি করে শোনান।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া সত্যিকারার্থেই একটি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আমরা আশা করি, তার এই চলে যাওয়া আমাদেরকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে। শোক শক্তিতে রূপান্তরিত করবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের এক নতুন ভবিষ্যৎ নির্মাণ করব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রাইভেট সেক্টর এবং পাবলিক সেক্টরের মধ্যে ‘ইউনিক কম্বিনেশন’ সৃষ্টি করেছিল। আমি আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথাটি বলছি। কারণ, তার সময় আমার কিছুদিন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের সুযোগ হয়েছিল। এবং তখন তার কাছ থেকে আমি যে নির্দেশগুলো পেতাম সেই প্রেক্ষিতে আমি কথাগুলি বলছি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমান ব্যক্তিখাত ও প্রাইভেটখাতে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন, তা বেগম খালেদা জিয়া ধারণ করে নিয়েছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে তারা এগিয়ে নিয়েছিলেন। শুধু গণতন্ত্রে নয় অর্থনীতিতে বেগম জিয়ার অবদান ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে তিনি এগিয়ে নিয়েছেন মাল্টিসেক্টরে। বেগম জিয়ার বৈদেশিক নীতি দেশকে নিয়ে গেছে সবার কাছে।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর ৮-৯ বছর আগে বেগম জিয়া দেশ সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। যখন কেউ সংস্কারের কথা মাথায় আনেনি, তখন বেগম জিয়া ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করেছিলেন। তারপর তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ৩১ দফা দেয়া হয়েছিলো, যেখানে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে কিভাবে দাঁড় করানো যায় সে বিষয়ে জানিয়েছেন।







