ফটিকছড়িতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বন কর্মকর্তাদের উপর হামলা,আহত-৪

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বন কর্মকর্তাদের উপর হামলা,আহত-৪

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় বন বিভাগের সংরক্ষিত ভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে সহকারী বন সংরক্ষকসহ চারজন গণ হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ধুইল্ল্যাছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক খান মোঃ আবরারুর রহমান, রেঞ্জ কর্মকর্তা বাচ্চু মিয়া, বনকর্মী খন্দকার মাহফুজ আলী এবং স্কেভেটরের চালক বিপ্লব।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে স্থানীয় একটি গোষ্ঠী মাইকিং করে ‘মসজিদে হামলা করা হচ্ছে’ এমন গুজব ছড়িয়ে দেয়। এতে উত্তেজিত হয়ে শতাধিক মানুষ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার পর আহত বন কর্মকর্তারা মূল সড়কে উঠে এলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মনোজ চৌধুরী বলেন, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে মানিকছড়ি নয়া মসজিদ এলাকায় খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে স্থানীয় কিছু মানুষ। অবরোধকারীরা অভিযোগ করে বলেন, দরিদ্র শিশুদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করা হচ্ছিল। কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই বন বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি ও মানিকছড়ি উপজেলার প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে বন বিভাগের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ঘটনায় বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মো. ইব্রাহিম বলেন, সংরক্ষিত বনভূমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা ও সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা থেকে আগত শাহ আলম নঈমী নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ফটিকছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় পাহাড় কেটে মাদ্রাসা ও স্কুল নির্মাণের নামে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলছিলেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email