লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সমস্যা দেখছি না, ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সমস্যা দেখছি না, ইইউ পর্যবেক্ষক দলকে প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ইয়ার ইয়াবস। রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, সাক্ষাতকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ক্যাম্পেইন করছে ও করবে এবং এর বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার আইনি পরামর্শ নিয়েছিল এবং এই টপ লিগাল এক্সপার্টরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার হ্যাঁ ভোট চাইতে এ বিষয়ে কোনও আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।

শফিকুল আলম জানান, ইইউ পর্যবেক্ষক দলের প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে আওয়ামী লীগ বিষয়ে বা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনও ধরনের কোনও আলোচনা হয়নি। গণভোট নিয়ে কথা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রিফর্ম এজেন্ডা বাস্তবায়ন হবে। মিশন প্রধান বলেছেন, তাদের যে মিশন এটা এখন দেশের সর্বোত্ত ছড়িয়ে পড়বে। তারা সব জায়গাকে মনিটর করবে, বড় বড় পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে কথা বলবে। অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলবে।

প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে প্রেস সচিব জানান, আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আশ্বস্ত করেছেন, আগামী নির্বাচন এবং গণভোট খুব সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। এটা ফ্রি, ফেয়ার, ক্রেডিবল, পিসফুল এবং এটা একটা ফেস্টিভ ইলেকশন হবে। তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বচন কমিশন পুরোপুরিভাবে প্রস্তুত আছে নির্বাচন ও গণভোটের জন্য, যাতে এটা সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের জন্য সমান থাকবে। এটা নিয়ে তিনি কোনও সমস্যা দেখছেন না। তিনি বলেছেন, এটা তেমন কোনও সমস্যা হবে না। প্রফেসর ইউনূস ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য। এটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ভোটিং সেন্টারগুলোতে বডি অর্ন ক্যামেরা থাকবে। সিকিউরিটি ফোর্সের কাছে বডিতে লাগানো থাকবে ক্যামেরা, ওইটা দিয়ে মনিটর করা যাবে যে, কোথাও কোনও সমস্যা হচ্ছে কিনা। কোনও ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোথাও অবনতি হচ্ছে কিনা এবং এটা কেন্দ্রীয়ভাবে একটা অ্যাপের মাধ্যমে যুক্ত থাকবে। ফলে সব উপজেলা, জেলা ডিভিশন এবং একদম ঢাকা থেকেই খুব সহজে মনিটর করা যাবে কোথায় কী হচ্ছে। সব সেন্টারে সিসিটিভি থাকবে। এর ফলে খুব দ্রুত অপরাধীদের আইডেন্টিফাই করা যাবে এবং সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে, র‍্যাপিড রেসপন্স স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে তারা, তখনই র‍্যাপিড রেসপন্স করতে পারবেন।

প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দেশের সর্বত্র এখন নর্বাচনের জোয়ার চলছে। তবে ফরমাল ক্যাম্পেইন শুরু হবে। আপনারা জানেন, জানুয়ারির ২২ থেকে ফরমাল ক্যাম্পেইন শুরু হবে। তিনি আরও বলেছেন, ইইউর পর্যবেক্ষক পাঠানোর অর্থ হলো, বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য একটা বড় এনডোর্সমেন্ট এবং এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য খুবই প্রয়োজনীয়। নির্বাচনের জন্য তিনি বলেছেন, বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে, যে ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে খুব ব্যাপক মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন ছড়ানো হচ্ছে এবং এখানে এটা দিয়ে অনেক ক্ষেত্রে সহিংসতা উসকে দেওয়া হচ্ছে, তাছাড়া পতিত স্বৈরাচারের লোকেরা ইলেকশন বানচালের চেষ্টা করবে। তবে সিকিউরিটি ফোর্সেস পুরোপুরি রেডি থাকবে, যে কোনও চ্যালেঞ্জ ফেস করার জন্য। তারা অলরেডি রেডি আছে, প্রফেসর ইউনূস বলেছেন, তরুণদের মধ্যে ভোটের জন্য খুবই আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email