
টানা বর্ষণ ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতার প্রভাবে মানিকগঞ্জের কাঁচাবাজারে আগুন লেগেছে সবজির দামে। উর্ধ্বমুখী বাজারে সবচেয়ে বেশি মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে কাঁচা মরিচের। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) মানিকগঞ্জের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চড়া দামের চিত্র দেখা গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও জেলার বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। সেই তুলনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
মানিকগঞ্জের বেওথা বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে মরিচক্ষেতে পানি জমে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। একই সঙ্গে অন্যান্য জেলা থেকেও সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই চড়া দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাবে খুচরা বাজারে দাম এতটা বেড়েছে।
মিতরা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা রিনা বাবুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাঁচা মরিচসহ সবজির বর্তমান দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাঁর অভিযোগ, বৃষ্টিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন। কাঁচাবাজারে দ্রুত সরকারি নজরদারি না বাড়ালে সাধারণ ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরও চরম আকার ধারণ করবে।
জেলা শহরের বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়, আর লম্বা বেগুনের দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এ ছাড়া করলা, বরবটি ও কাঁকরোল কিনতে কেজিতে গুনতে হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়।
অন্যদিকে ধুন্দুল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ কিনতে কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আকারভেদে একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়।
বর্তমান বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে শুধু পেঁপে, যা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে পেঁপে ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দামই দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, এলাকাভিত্তিক ছোট বাজারগুলোর তুলনায় আড়ত সংলগ্ন মিতরা বাজারে এখনো কিছুটা কম দামে সবজি পাওয়া গেলেও সার্বিকভাবে সব পণ্যের বাজারই এখন লাগামহীন।







