চট্টগ্রামকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়তে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত থাকবে-ডা. শাহাদাত 

চট্টগ্রামকে শিক্ষাবান্ধব নগরী গড়তে মেয়র শিক্ষাবৃত্তি অব্যাহত থাকবে-ডা. শাহাদাত 

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর ৯০তম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘চসিক মেয়র মেধাবৃত্তি’ চালু করেছেন। এই বৃত্তি কার্যক্রমটি শহীদ জিয়াকে উৎসর্গ করা হয়।

সোমবার বিকেলে নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত মেয়র শিক্ষাবৃত্তি ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন প্রধান অতিথি শাহাদাত হোসেন।

গত ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় চসিক পরিচালিত ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নগরীর ১২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ২৬০২ জন শিক্ষার্থী। ১৪ জানুয়ারি বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ নম্বরধারীকে দেওয়া হয় একটি নতুন ল্যাপটপ, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট, ট্যালেন্টপুল প্রাপ্ত প্রত্যেককে দেওয়া হয় নগদ ১০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট এবং প্রথম গ্রেড প্রাপ্ত প্রত্যেককে দেওয়া হয় ৫ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট এবং সাধারণ গ্রেড প্রাপ্ত প্রত্যেককে দেওয়া হয় নগদ ৪ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। সবমিলিয়ে ১০০ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে পুরস্কার তুলে দেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিক্ষার প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসার পথ সুগম করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ চালু করে একটি প্রগতিশীল শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তুলেছিলেন।

মেয়র আরও বলেন, শিক্ষা হচ্ছে জাতি গঠনের প্রধান ভিত্তি। মেধাবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়বে, তারা ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে এই ধরনের উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকবে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা ও সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারাই আগামীর আলোকিত বাংলাদেশ গড়বে। শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েই একটি শক্তিশালী ও নৈতিক সমাজ বিনির্মাণ সম্ভব।

মেয়র আরও বলেন, এই শিক্ষাবৃত্তি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আগামীতেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো মেয়র শিক্ষাবৃত্তি চালু করা হলো। তিনি উল্লেখ করেন, নগরীর মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিসর আরও বিস্তৃত করা হবে এবং নিয়মিতভাবে এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা পর্ষদের আহবায়ক অধ্যাপক ড. শামসুদ্দীন শিশিরের সভাপতিত্বে ও সমন্বয়ক আবু মোশাররফ রাসেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. নছরুল কদির, সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, থিয়েটার ইনস্টিটিউটের পরিচালক অভীক ওসমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মেয়র শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনা পর্ষদের যুগ্ম আহবায়ক ও প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল। উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার প্রবাল রক্ষিত, লায়ন উছমান গনি, অধ্যক্ষ আমিনুল হক খান, অধ্যক্ষ জিনাত পারভীন শাকি, অধ্যক্ষ শাহেদুল কবির চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক তমিজ উদ্দিন, রোমা বড়ুয়া, আকতার হোসেন, লোকমান উদ্দীন লাহেড়ী, বৃত্তি কমিটির সদস্য উপাধ্যক্ষ ওসমান সরওয়ার সহ অভিভাবকবৃন্দ ও বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email