কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নাজমির

কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নাজমির

দেশের একজন নামকরা কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মডেল নাজমি জান্নাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান তাঁর ছোট ভাই, যিনি নিজেও একজন মডেল, একটি ফটোশুট করতে গিয়ে এই হেনস্তার শিকার হয়েছেন। নাজমি সরাসরি কোরিওগ্রাফারের নাম প্রকাশ না করলেও তাঁর বর্ণনায় নানা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

নাজমি বলেন ওই কোরিওগ্রাফারের নাম, পরিচিতি ও ক্ষমতা সবই আছে। সম্প্রতি তাঁর ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান একটি শুটে কাজ করতে গেলে শুরুতে খুব ভালো ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দু’টি শুটের পর তাকে আলাদা করে একটি চেঞ্জিং রুমে ডেকে অশালীন ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

কাজের অজুহাতে হেনস্তা নাজমি জান্নাতের অভিযোগ অনুযায়ী কাজের অজুহাতে তাঁর ছোট ভাইকে সীমা ছাড়ানো কথা বলা হয় এবং আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করার অনুমতি চাওয়া হয়। তাঁর ভাই যখন এসবে অসম্মতি জানান, তখন তাকে শাস্তিস্বরূপ ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ বলে শুট থেকে বের করে দেওয়া হয়।

নাজমি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন তিনি বহু বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন। যোগ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি অনেক দূরে পৌঁছাতে পারেননি কারণ তিনি নিজের সম্মানকে কখনও শর্টকাট বানাননি এবং কোনো অনৈতিক প্রস্তাবের সঙ্গে আপস করেননি।

ইন্ডাস্ট্রির অসুস্থ পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন নাজমি আরও বলেন একজন মেয়ে হিসেবে অনেক কথা গিলে ফেললেও যখন তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একই ঘটনা ঘটল, তখন তিনি আর চুপ থাকতে পারলেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন দক্ষতা ও প্রতিভার মূল্যায়ন কবে হবে? ‘না’ বলাটাকে কেন চারিত্রিক শক্তি হিসেবে না দেখে শাস্তি হিসেবে দেখা হয়?

শোবিজ বা বিনোদন জগতের এই অসুস্থ অভ্যাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন যদি টিকে থাকার জন্য সম্মান বিসর্জন দিতে হয়, তবে সেটি এই ইন্ডাস্ট্রির জন্যই লজ্জার। এমনটা চলতে থাকলে ভালো মানুষরা এই পেশায় আর আসবে না।

ভালোর আশাবাদ তবে সবশেষে এই মডেল ইতিবাচক দিকও তুলে ধরেন। তিনি বলেন সব মানুষ এক না। কিছু ভালো মানুষ অবশ্যই আছে বলেই ইন্ডাস্ট্রিটি টিকে আছে এবং তাঁরা এতদূর আসতে পেরেছেন। এই অনিয়মগুলো বন্ধ হলে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে বলে তিনি মনে করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email