
রাজধানীর মিন্টো রোড ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা আজ বিকেলে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের শীর্ষস্থানীয় নেত্রীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই সরব ছিল ইনকিলাব মঞ্চ।
প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা এবং তার সন্নিকটে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, এ দুই স্থানে বিভক্ত হয়ে তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ আগে থেকেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে শক্তিশালী ব্যারিকেড দিয়ে যমুনার দিকে যাওয়ার পথ বন্ধ করে রেখেছিল। আজ শুক্রবার বিকেলের দিকে যমুনার সামনের অংশে অবস্থান করছিলেন নিহত ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা।
অন্যদিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেডের ওপাশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা রাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকশ নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা ডাকসুর সাবেক নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের গতিরোধ করে।
এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থাকা বিশাল জনস্রোত পুলিশের দেওয়া লোহার ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড টপকে এগোতে থাকলে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া।
বিকেল পৌনে চারটার দিকে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করে। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছিটাতে শুরু করে। তবে আন্দোলনকারীরা পিছু না হটে পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ও পানির বোতল ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে পুলিশ দফায় দফায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল বা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। সেই সঙ্গে শুরু হয় ব্যাপক লাঠিচার্জ।
পুলিশের এ সাঁড়াশি অভিযানে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ বা ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা অত্যন্ত উগ্রভাবে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করে। এমনকি বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশের জলকামানের ওপর উঠে সেটির ক্ষয়ক্ষতি করার চেষ্টা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে।
সংঘর্ষের রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পুলিশের হামলার প্রতিবাদে তিনিসহ উপস্থিত আন্দোলনকারীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ মোড়ের দিকে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তারা পুলিশের অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানান এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেন।
বিকেলের এ সংঘাতের পর পুরো মিন্টো রোড ও শাহবাগ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যমুনার নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। একদিকে ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি, অন্যদিকে পুলিশের কঠোর অবস্থান, এ দুইয়ের চাপে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র এখন গভীর উৎকণ্ঠায়।







