চাকসুর উদ্যােগে দুই দিনব্যাপী ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

চাকসুর উদ্যােগে দুই দিনব্যাপী ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) বেলা ১১টায় চবি শহীদ আবদুর রব হল মাঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) কর্তৃক আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘জাগ্রত জুলাই কালচারাল ফেস্ট-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও চাকসুর সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান।

বিকাল ৪টায় একই স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবির মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। প্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক চিফ প্রসিকিউটর এডভোকেট তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও চাকসুর সাবেক ভিপি এডভোকেট মো. জসিমউদ্দিন সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “আজ সকালে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাদুঘর পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন আলোকচিত্র দেখছিলাম। একটি ছবিতে দেখলাম ছাত্রদলের নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং তৎকালীন ছাত্রনেতা ইব্রাহিম হোসেন রনি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে একই স্লোগান দিচ্ছেন। সেই দৃশ্য আমাদের একটি বড় শিক্ষা দেয়- মতের ভিন্নতা থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে, ন্যায়ের প্রশ্নে এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হওয়াই আমাদের শক্তি।”

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূলমন্ত্র ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ যেন বজায় থাকে। মতবিরোধ থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। কিন্তু সেই মতবিরোধ যেন কখনো সংঘাত, সহিংসতা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে জাতীয় রাজনীতির সংঘাতমুখী সংস্কৃতির প্রতিফলন আমরা দেখতে চাই না। ক্যাম্পাসে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহাবস্থান এবং সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। উপাচার্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ফরহাদ ও শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়াসহ সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ আগামী প্রজন্মকে দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করবে। মাননীয় উপাচার্য ক্যাম্পাসে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, অতীতে আমাদের দেশে দুর্নীতি, বৈষম্য এবং নানা ধরনের অনিয়ম সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সেই বাস্তবতা থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা আমাদের সামনে একটি নতুন স্বপ্ন ও নতুন প্রত্যাশার দিগন্ত উন্মোচন করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা হলো- গণতন্ত্র, শোষণহীন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা, সকল নাগরিকের সমমর্যাদা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এই চেতনাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শহীদ ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী ও রাসেল আহমেদ, এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ এবং জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জুলাই আহতদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, চাকসুর প্রতিনিধিবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চাকসুর সাহিত্য সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেস মাতাব্বর, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফ ও গবেষণা সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ উৎসবে রয়েছে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রদর্শনী এবং দর্শনার্থীদের জন্য নানা আকর্ষণীয় আয়োজন। বিভিন্ন স্টল ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা ঘুরে করছেন প্রতীকী আয়নাঘর, ফাঁসির মঞ্চ, হারুনের ভাতের হোটেলসহ বিভিন্ন থিমভিত্তিক উপস্থাপনা।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email