
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রজেক্টের ইনসেপশন সেমিনার আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেলা ১২.৩০টায় বিভাগের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. লায়লা খালেদা।
সেমিনারে প্রজেক্ট সম্পর্কে যাবতীয় বিষয় বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রজেক্টের এসপিআই প্রফেসর ড. এস. এম. রফিকুল ইসলাম ও এএসপিএম প্রফেসর ড. আদনান মান্নান। সেমিনারে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন পথিকৃৎ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (BUHS)-এর প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর ডা. লিয়াকত আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই প্রজেক্টটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। শুধু প্রজেক্ট সম্পন্ন করলেই হবে না, এর দৃশ্যমান ও কার্যকর আউটকাম থাকতে হবে। গবেষণার ফলাফল যেন বাস্তব সমস্যার সমাধানে কাজে লাগে এবং সমাজ ও দেশের জন্য উপকার বয়ে আনে, সেদিকে আমাদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে এসব প্রকল্পের গবেষণাগার, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুবিধা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গবেষক ও শিক্ষার্থীরাও ব্যবহার করতে পারে, সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। আমরা শুধু একটি বা দুটি বিভাগের গবেষণাকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় হতে চাই না; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ ও বিভাগে মানসম্মত গবেষণার পরিবেশ তৈরি করতে চাই। মাননীয় উপাচার্য সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ হলো নতুন জ্ঞানের সৃষ্টি ও সেই জ্ঞান সমাজে বিতরণ করা। আর এ ধরনের গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সেই কাজটিই করে থাকি। বাংলাদেশে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। যদি এই ধরনের গবেষণার মাধ্যমে রোগের কারণ শনাক্তকরণ, আগাম সতর্কতা বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন কোনো কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়, তাহলে সেটি শুধু আমাদের দেশের জন্য নয়, সারা বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হতে পারে।
উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এত বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য ডায়াবেটিস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই এই রোগের কারণ, প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—এমন গবেষণা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন চিকিৎসাবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে একাডেমিক অঙ্গনে নতুন জ্ঞান সংযোজিত হবে এবং সমাজ উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন গবেষণা প্রকল্পের সদস্য ও বিভাগের প্রভাষক আফরোজা আকতার তন্বী। এসময় জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, অন্যান্য বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ বাস্তবায়নে প্রজেক্টটির এই বিশেষ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।








