,

নিজের ভেতরের শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব: চবি উপাচার্য

নিজের ভেতরের শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব: চবি উপাচার্য

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেছেন, আমরা যতই বিশ্বশান্তির কথা বলি না কেন, শান্তির অনুসন্ধান শুরু করতে হবে নিজের ভেতর থেকে। নিজের আত্মা, বিবেক ও মানবিক সত্তাকে পরিশুদ্ধ করতে না পারলে বাইরের পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়।

আজ শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বশান্তি প্যাগোডা কর্তৃক আয়োজিত প্যাগোডা প্রাঙ্গণে বৌদ্ধদের অন্যতম জাতীয় ও ধর্মীয় দানানুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় পাশাপাশি অবস্থিত, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, ধর্মীয় সহাবস্থান ও সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ। সব ধর্মেই শান্তি, মানবতা ও কল্যাণের কথা বলা হয়েছে। তবে আমরা যে শান্তির কথা বলি, সেই শান্তি আমাদের নিজেদের মধ্যে কতটা বিদ্যমান, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রাণ হত্যা মহাপাপ—এই ধারণাকে কেবল জীবের জীবননাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে চলবে না। মানুষের ভেতরেও একটি আত্মিক সত্তা, বিবেক ও প্রাণশক্তি রয়েছে। আমাদের চিন্তা, কর্ম ও আচরণের মাধ্যমে সেই সত্তাকে আমরা কতটা পরিশুদ্ধ ও সজীব রাখতে পারছি, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পরনিন্দা, পরচর্চা, হিংসা, বিদ্বেষ ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে। এর প্রভাব পড়ে পরিবার ও সমাজের শান্তির ওপর।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাসনস্তম্ভ ভদন্ত ধর্মপ্রিয় মহাথেরো, উদ্বোধক প্রফেসর ড. জ্ঞানরত্ন মহাথেরো, প্রধান সদ্ধর্মদেশক প্রজ্ঞানিধি ভদন্ত শাসনবংশ মহাথেরো ও মুখ্য আলোচক ছিলেন সংঘকীর্তি ভদন্ত বিপুলসেন মহাথেরো। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ উদয় কুসুম কুমার বড়ুয়া, ডাক্তার অরুন কান্তি চৌধুরী, ধর্মীয় গুরুজন, আমন্ত্রিত অতিথি ও সুধীবৃন্দ।