
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা আজ শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় মুখ্য আলোচক ও সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান, আলোচক হিসেবে ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
মুখ্য আলোচক ও সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ কেবল একটি রাজনৈতিক পরিচয় নয়, এটি একটি দর্শন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত এই দর্শনের মূল ভিত্তি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধ, বহুদলীয় গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা। এই দর্শনের মূল কথা হলো—কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া। মাননীয় উপাচার্য আলোচনা সভায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক পটভূমি, তাৎপর্য এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে এ দিবসের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সুন্দর, সমৃদ্ধ ও গতিশীলভাবে এগিয়ে নিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে মতভেদ, ভুল বোঝাবুঝি ও অভিমান দূরে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমি উপাচার্য হিসেবে সবার পরামর্শ ও সহযোগিতা কামনা করছি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে একটি হল করার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করা হবে বলে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান ও দর্শনের যথাযথ মূল্যায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।
আলোচকের বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই জাতি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনাকে স্মরণ করেছে। ২০২৪ সালেও যখন দেশের মানুষ আশঙ্কা করেছিল, আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হয়তো বিপন্ন হতে যাচ্ছে, তখন আবারও ৭ নভেম্বরের চেতনা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রত্যয় থেকেই আমরা এই চেতনাকে ধারণ করেছি। ৭ নভেম্বরের কথা স্মরণ হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথাও অনিবার্যভাবে স্মরণে আসে। কারণ, দেশের মানুষ, ছাত্র, জনতা ও সৈনিক যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখনই বড় পরিবর্তনের সূচনা ঘটে।
মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দি করা হয়। পরবর্তী সময়ে ৭ নভেম্বর সাধারণ সৈনিক ও জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে একটি ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মত ও পথের অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রতিষ্ঠা।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর, শাহজালাল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. জহুরুল আলম, চাকসু কেন্দ্রের পরিচালক ও ফিজিক্যাল এডুকেশন এন্ড স্পোর্টস সায়েন্সের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান চৌধুরী, চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. আবু নছর মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ, চবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল নোমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়, সহ-সভাপতি আহসান হাবিব, চবি শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ছবুর, ৩য় শ্রেণী কর্মচারীর পক্ষে মো. ওসমান গণী ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারীর পক্ষে আবদুল মালেক। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, সভাপতি-পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টর, প্রশাসকবৃন্দ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন







