
দেশের স্পোর্টস নিয়ে বিএনপি অনেক বড় পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ রবিবার বিকালে ‘ফিউচার অব স্পোর্টস ইন চট্টগ্রাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে একথা জানান তিনি। চট্টগ্রাম বন্দর শহীদ ফজলুর রহমান অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সভায়
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কৃতি ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। তিনি চট্টগ্রাম ও দেশের স্পোর্টস নিয়ে বিশেষ নজর রাখার জন্য আমীর খসরুর প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান। এসময় তিনি বলেন, আমরা এক বছর পর আবারও আলোচনায় বসবো। এক বছরে ক্রীড়াঙ্গণ নিয়ে কতটুকু কাজ হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করবো। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর ইসরাফিল খসরু।
স্পোর্টসের মাধ্যমে দেশের পরিচিতি বাড়ে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, একটা দেশ যখন খেলায় ভাল করে তখন ওই দেশকে পুরো বিশ্ব চিনে। তামিমদের মাধ্যমে আমাদের দেশ প্রচুর পরিচিতি লাভ করেছে। সুতরাং খেলাধুলা হলো দেশের সফট পাওয়ার। তাই স্পোর্টসকে নিয়ে আগামী দিনে আমাদের অনেক বড় চিন্তা আছে। নির্বাচিত হয়ে আমরা সরকারে যেতে পারলে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা আছে স্পোর্টস ঘিরে। তারেক রহমান বলেন,‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান, ইউ হ্যাভ অ্যা প্ল্যান
তিনি বলেন, আমরা আজকে বসেছি ক্রীড়াঙ্গণের সমস্যাগুলো আপনাদের কাছ থেকে শোনার জন্য। কেন শুনতে চাচ্ছি, কারণ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব বলেছেন উই হ্যাভ আ প্ল্যান। আমরা স্পোর্টসের জন্য একটা বড় প্ল্যান করেছি। কী কী করেছি তার একটা আভাষও দিয়েছি। আপনাদের কাছ থেকে শোনার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমাদের প্ল্যানের মধ্যে কোন ঘাটতি আছে কিনা সেটা দেখার জন্য। আমাদের প্ল্যানটা আরও উন্নত করার সুযোগ আছে কিনা। এটার মধ্য দিয়ে স্পোর্টসকে ডেমোক্রেটাইস করা। স্পোর্টসেও ডেমোক্রেসি থাকতে হবে। তাদেরকেও কথা বলতে হবে, তাদের কথা আমাদের শুনতে হবে। আপনাদের কথা না শুনলে আমাদের পরিকল্পনাকে পরিপূর্ণতা দিতে পারবো না। এজন্য আজকে আপনাদের কথা শুনতে এসেছি। আপনাদের কথা শুনে মনে হয়েছে, স্পোর্টস নিয়ে অধিকাংশই আমরা পরিকল্পনার মধ্যে এনেছি।
বিএনপির মতো কোন রাজনীতিক দল ক্রীড়া নিয়ে তাদের রাজনীতিক পরিকল্পনার মধ্যে এত বড় করে রাখেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা স্পোর্টসকে সামনে নিয়ে এসেছি, উপরে নিয়ে এসেছি। ফ্রন্ট অ্যান্ড সেন্টারে নিয়ে আসছি। স্পোর্টসকে আমরা আপনাদের ক্যারিয়ার, বাংলাদেশের উন্নয়ন হিসাবে দেখছি। স্পোর্টসকে আমরা সফট পাওয়ার হিসাবে দেখছি। সুতরাং সামস্টিক সমাধানের মাধ্যমে স্পোর্টসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আপনাদের কথা শুনে যা পেয়েছি সেটা হলো- আরও যেখানে যেখানে পরিপূর্ণতা দেওয়া দরকার সেখানে দেওয়া হবে। একটি সামস্টিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম তখা বাংলাদেশের স্পোর্টসকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবো।
তামিম ইকবালের এক বছর পরে আলোচনায় বসার প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, তামিমের সাথে আমি একমত। আগামী এক বছর পর আবার আমরা বসবো। কি করতে পেরেছি কি করতে পারিনি সেটা তুলে ধরার জন্য। কারণ বিএনপি রাজনীতিতে জবাবদিহিতাকে সামনে আনতে চায়। আমি যাতে আপনাদের সাথে জবাবদিহি করতে পারি সেজন্য আপনাদের সামনে বসবো। আমাদের সমস্যা হচ্ছে রাজনীতিবিদরা জবাবদিহি করতে চান না। আগামী বছর দেখা হবে, এক বছরে আমরা স্পোর্টসকে কতটুকু এগিয়ে নিতে পেরেছি, কতটুকু পারি নাই। না পারলে কেন পারি নাই, এটার সমাধান কী? আবার আপনাদের সামনে আলোচনার মাধ্যমে চট্টগ্রামের স্পোর্টসকে যে জায়গায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি সে উদ্দেশ্য সফল হবে বলে আমি আশা করি।
স্পোর্টস কেন্দ্রীক অর্থনীতির ধারণা দিয়ে সাবেক মন্ত্রী বলেন, খেলাধুলায় যতবেশি ছেলেমেয়োরা যাবে, যতবেশি ইন্টারেস্ট বাড়বে, সমাজ ও দেশের মধ্যে ততবেশি স্পোর্টস এক্টিভিটি বাড়বে। ততবেশি ট্রানজেকশন হবে। কিভাবে সেটা? যখন কোন খেলা হয়, ক্রিকেট, ফুটবল, হকি কিংবা ভলিবল। তখন প্রচুর দর্শক টিকেট কেড়ে খেলা দেখতে যায়। এই যে টিকেট কেটে খেলা দেখে এটাই হলো অর্থনীতি। এই যে আমরা প্রবৃদ্ধি বলি না, সেটা হলো আমরা যত টাকা দৈনিক খরচ করি সেটা যোগ করে প্রবৃদ্ধি হিসাব করা হয়। সুতরাং আমরা স্পোর্টসকে যতবেশি জনপ্রিয় করতে পারবো, যতবেশি ম্পোর্টস ম্যান বাড়বে, যত বেশি এক্টিভিটি বাড়বে, সুযোগ সুবিধা বাড়বে; তার মাধ্যমে স্পোর্টস ইকোনমি গড়ে উঠবে। স্পোর্টস ইকোনমি যখন বাড়বে তখন এমপ্লয়মেন্ট বাড়বে। কারণ স্পোর্টস এক্টিভিটির মাধ্যমে প্রচুর চাকরি হয়।
চট্টগ্রামে মাঠের সংকট নিয়ে আমীর খসরু বলেন, মাঠের অভাবে চট্টগ্রামে স্পোর্টস চর্চা সীমিত হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে আমি চট্টগ্রামের মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছি। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে এরই মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি ৩০টি ওয়ার্ডে মাঠ হয়ে যাবে।
সুইমিংপোল সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েদের প্রতিভা প্রতিটি ক্ষেত্রে আছে। সকল খেলাকে স্পোর্টস হিসাবে গণ্য করে আগামী দিনে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হবে। আমি আবারও বলছি, বড় ধরনের বিনিয়োগ আমরা স্পোর্টসের জন্য করবো। সেখানে সুইমিংপোলও থাকবে। এক সময় ভাল খেলোয়াড়রা সরকারি এবং কর্পোরেট অফিসে চাকরি পেত খেলাধুলা করার জন্য। আমার মনে হয় এটা সোশ্যাল কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটির মধ্যে রয়েছে। আমরা এটাকে এনকারেজ করি। তবে আমি তারচেয়ে বেশি এনজারেজ করবো, স্পোর্টসের মাধ্যমে যাতে আয় করতে পারে। পাশে থাকা তামিকে দেখিয়ে তিনি বলেন, তামিমের কি চাকরির দরকার আছে? যারা ইন্টারন্যাশনাল ভাল ভাল খেলোয়াড় হয়ে যাচ্ছে তাদের চাকরির দরকার নাই। ওদের এত আয় তারা অনেক লোককে চাকরি দেয়। সুতরাং স্পোর্টসের মাধ্যমে যাতে আয় করা যায় সেদিকেই আমরা নজর দেব।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন একাডেমীর প্রশিক্ষক, জাতীয় খেলোয়াড় এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।







