
প্রথম থেকে বিএনপির ইমেজ নষ্ট করতে একটা গ্রুপ উঠে পড়ে লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশকে যেভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, এগুলো ফিরিয়ে এনে নতুন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ করাটা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা। যেভাবে আজকে একটি অনৈতিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে দিয়ে গেছে বিগত সরকার; কথায় কথায় মিত্যা বলা, মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি করা, অনাচার করা, আইনের শাসন ধ্বংস করে দেওয়া, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া, কোন কারণ ছাড়াই জেলে পাঠানো, কিশোর গ্যাং নামক উপদ্রব তৈরি করা, পুলিশের বাহিনীকে আওয়ামী বাহিনীতে পরিণত করা, প্রশাসন ও নির্বাহী বিভাগসহ মানুষকে যে তারা ডিভেটেড ও বিপদগামী করেছে; এসব জায়গা থেকে তাদের সড়িয়ে নতুন-নৈতিক ও সঠিক ধারায় আনাটাই এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপট থেকে আমরা কিভাবে উত্তোরণ ঘটাতে পারবো, এটা নিয়েই এখন আমাদের কাজ করতে হবে।
সোমবার (৯ মার্চ) নগরীর জামালখানস্থ চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সুলতান আহমেদ মিলনায়তনে পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি-পিআরইউ আয়োজিত “নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রতিবন্ধকতা” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এখনও অপসাংবাদিকতা হচ্ছে মন্তব্য করে মেয়র বলেন, কোন ভালো কাজ করলেও নেগেটিভভাবে আপনাকে উপস্থাপন করে বাজে প্রভাব সৃষ্টি করার মত ঘটনা এখনও ঘটছে। ইউলো জার্নালিজ থেকে বেরিয়ে যাঁরা সঠিক সাংবাদিকতা করেন তাদের কাছেও এসব বিষয় বিব্রতকর। আমাদের সমস্যা যে নেই তা নয়, সে লিখুক। কিন্তু সেটা সত্য ও গঠনমূলক হওয়া চাই। আমাদের বিনিয়োগ দরকার, সেটা পেট ভরার জন্য নয়। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য চট্টগ্রামে এখনও অনেক বিনিয়োগ দরকার। আমাদের বিদ্যুৎ. গ্যাস, পানি, জায়গাসহ নানা সমস্যা রয়েছে। একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এসব সমস্যা থেকে উত্তোরণও আমাদের জন্য খুব জরুরি।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমাদের কিভাবে বাজেট কম দেওয়া যেত সেটাই তাদের চিন্তা ছিল। আজকে ৫০-৬০ ভাগ জলাবদ্ধতা আমরা নিরসন করে দিয়েছি। কিন্তু আমার বাজেট কত ছিল? মাত্র ২০ কোটি টাকা বাজেট ছিল। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা মতো মেগা ইভেন্টের জন্য। ময়লা পরিস্কার করার জন্য ৩০০ কোটি টাকার একটা যন্ত্র-সেটা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বারবার ফাইট করেছি আমি এটার জন্য। বিএনপির মেয়র সেই জন্য দেওয়া হয়নি। আজকে জনগণের ভোটের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসছে। এখানে সেকেন্ড কিছুই নাই। জনগণের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। বিভিন্নভাবে যদি কেউ এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় এটার ব্যাপারে আপনাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে এগুলোই হচ্ছে প্রথম প্রতিবন্ধকতা। প্রথম থেকে বিএনপির ইমেজ নষ্ট করতে একটা গ্রুপ উঠে পড়ে লেগেছে।

পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ইউনিটি-পিআরইউ’র আহবায়ক হাসান মুকুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান ও মুখ্য আলোচক ছিলেন চিন্তক ও জবান সম্পাদক রেজাউল করিম রনি। পিআরইউ’র সদস্য সচিব ইমরান এমির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন, তরুণ রাজনীতিবিদ ও শিল্পদ্যোক্তা শাহওয়াজ জামাল নিজাম সনি, পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের বিভাগীয় প্রধান দিলরুবা আক্তার রেনু।
বক্তব্য রাখেন সংগঠক জহিরুল ইসলাম জহির, সিটিজি পোস্টের হেড অব নিউজ ইশাত মান্নান তানিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখার আমিন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা এডভোকেট ইকবাল হোসেন, জাতীয়তাবাদী ইয়াং ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহনেওয়াজ চৌধুরী, জুলাই আন্দোলনের আহত সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম জেলার সমন্বয়ক রিজাউর রহমান, মুখপাত্র ফাতেমা খানম লিজা, শফিউল বাসার সামু।
উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নাজিম উদ্দিন, শেয়ার বিজের ব্যুরো প্রধান নূর হোসেন মামুন, আজিজা হক পায়েল, সকাল বেলার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী, তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, আজিম অনন, সুমন চৌধুরী ফরহাদ, বাকি বিল্লাহ চৌধুরী, ইঞ্জি. নুর আলম, ইঞ্জ. রনি বড়ুয়া, সাজ্জাদ রোহান, শরিফ উদ্দিন প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবু সুফিয়ান বলেন, দেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে দুর্নীতি, বৈষম্য এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি গণমাধ্যমেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন চিন্তক ও জবান এর সম্পাদক রেজাউল করিম রনি। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, নৈতিক নেতৃত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আলোচনা সভায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।







