
তোমার স্বাধীন মর্যাদার জন্য হে প্রিয় জন্মভূমি,
আমরা শরতের মেঘমালায় দেখেছি বারুদের কালো ধোঁয়া,
ফসলের মাঠে দেখেছি লাশের বীভৎস স্তূপ।
শুধু নয় মাসের যুদ্ধ নয়—
তুমি লড়াইয়ের এক দীর্ঘ ইতিহাস।
তুমি রাজপথের মিছিলে ঝরে পড়া আসাদের রক্তাক্ত শার্ট,
তুমি ৫২-র বর্ণমালা আর ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের গর্জন।
তারপর সেই কালরাত—
যখন শকুনেরা নেমে এল শহরে,
তখন নিস্তব্ধতার বুক চিরে ভেসে এল এক অকুতোভয় ঘোষণা।
রণক্ষেত্রের সেই রণহুঙ্কার:
কালুরঘাট থেকে ভেসে আসা সেই কণ্ঠস্বর—
“আমি মেজর জিয়া বলছি”।
সেই বলিষ্ঠ ঘোষণা যেন নিভে যাওয়া প্রদীপে আগুনের স্ফুলিঙ্গ!
সেই ডাক পৌঁছে গেল গ্রাম থেকে গ্রামে, খেত থেকে খামারে;
কৃষক ফেলে দিল লাঙল, ছাত্র ছাড়ল প্রিয় বইয়ের পাতা—
সবাই হয়ে উঠল এক একজন গেরিলা, এক একজন অপরাজেয় যোদ্ধা।
তুমি কি দেখেছ সেই রণাঙ্গন?
যেখানে সেক্টর কমান্ডারদের তীক্ষ্ণ মেধা আর পরিকল্পনা
ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল শত্রুর সুসজ্জিত ব্যূহ।
জেড ফোর্স, এস ফোর্স আর কে ফোর্সের সেই অবিস্মরণীয় অভিযান—
বিলোনিয়া থেকে সালদা নদী, আখাউড়া থেকে হিলি,
বাংলার প্রতিটি মাটি তখন এক একটি অগ্নিকুণ্ড।
বীরশ্রেষ্ঠদের সেই আত্মাহুতি, মায়েদের সেই অসীম ত্যাগ,
সবই মিশে গেল পদ্মা-মেঘনার পলিমাখা জলে।
অবশেষে এল সেই সোনালি দুপুর—
শত্রুর মাথা নত হলো, আর আকাশ কাঁপিয়ে উঠল ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ গর্জন।
স্বাধীনতা, তুমি আজ নীল আকাশে ওড়া লাল-সবুজ পতাকা,
স্বাধীনতা, তুমি শহীদের কবরে ফুটে থাকা নাম না জানা ফুল।
প্রিয় জন্মভূমি, তোমার তরে ঢেলে দিয়েছি এক নদী সমান রক্ত,
বিনিময়ে তুমি আমাদের দিলে—এক প্রশান্তিময় ঠিকানা।







