সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা

সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মানবিক সহায়তা

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দুই হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে। সরকারের ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে এ সহায়তা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

সোমবার ১৩ জুলাই ২০২৬ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়কের বাজালিয়া কর্নেল অলি আহমেদ কলেজ মাঠে বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ৫০০ বস্তা ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৫ জুলাই) বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি-এর উপস্থিতিতে জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দুই হাজার পরিবারের জন্য ত্রাণ সামগ্রী উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সেগুলো বন্যাদুর্গত ও অসহায় মানুষের মাঝে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণ করা হয়।

ঐ সময়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের পাশাপাশি জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মতো বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারকে সহযোগিতা করায় আমি সংস্থাটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সন্তোষ প্রকাশ করছি।”
জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (মাইক্রোফাইন্যান্স) মো. আজিজুল হক বলেন,
“মানুষের যেকোনো দুর্যোগে পাশে থাকাই জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের মূল অঙ্গীকার। মানবিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি উন্নয়ন সংস্থা তার প্রকৃত ভূমিকা পালন করতে পারে। চলমান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর মো. আজিজুল হক-এর নেতৃত্বে সংস্থার একটি প্রতিনিধিদল ত্রাণ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। এসময়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে আসছে। বর্তমানে সংস্থাটি দেশের ৫৭টি জেলায় প্রায় সাত লক্ষাধিক ক্ষুদ্রঋণ সুবিধাভোগীর সঙ্গে কাজ করছে। ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকায়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email