
চট্টগ্রাম আদালত ভবনের এজলাস কক্ষে মামলার বাদীকে গলায় চুরি ডুকিয়ে দিয়েছে আসামীরা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় চট্টগ্রাম মেট্টাপলিটন মেজিস্টেট আদালত -৩ এর এজলাস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পর বিচারকের নির্দেশে পুলিশ পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নূরুল কবিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। নুরুল কবির স্থানীয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চাাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, চুরিসহ তিনটি মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার বিচারকাজে উপস্থিত হলে আসামীরা এমন ঘটনা ঘটায় বলে তার স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা নুরুল কবিরের স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা বলেন, আজকে মামলার হাজিরা ছিল। আমার স্বামী এজলাসে ডোকার কিছুক্ষণ পর মামলার আসামী ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল ও মো. ফয়সালসহ আরো কয়েকজন মিলে তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গলায় চুরি ডুকিয়ে দেয়। এ সময় তার আত্মচিৎকারে আসামীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। এর আগে আসামীরা গ্রেফতার হয়। সম্প্রতি এরা জামিনে বেরিয়ে আসে।
জানা গেছে, নুরুল কবিরের সাথে আসামীদের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় নুরুল কবির ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা (৩০) বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা নং-০৩(১১)২০২৪, মামলা নং-০৪(৬)২০২৬, মামলা নং-২৩(৬)২০২৬ দায়ের করে। যাহা আদালতে বিচারাধীন এবং থানায় তদন্তাধীন আছে। এতে আসামীরা ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। সম্প্রতি নুরুল কবিরের পাঁচলাইশের বাসায় দিন-দুপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার ৩ দিন পর অবশেষে চুরির মামলা গ্রহণ করে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচলাইশ থানাধীন হাদুমাঝি পাড়া এলাকার ব্যবসায়ী নূরুল কবিরের বাড়ীতে ২০২৪ সালে নগদ ১৪ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী ইলিয়াস হোসেন অপুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ২০২৫ সালের প্রথম দিকে তাহসিন হত্যা ও চুরির মামলা থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ইলিয়াস হোসেন অপু নুরুল কবিরের নিকট সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবীসহ মামলা তুলে না নিলে ডিশ-ওয়াইফাই ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকী প্রদান করেন।
তাদের দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত ১ জুন সাবেক যুবলীগ নেতা জয়নাল আবেদীন সোহেল ও ইলিয়াস হোসেন অপুর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা নুরুল কবিরকে তুলে নিয়ে সোহেলের রিক্সার গ্যারেজে আটকে রেখে ২ দিনের মধ্যে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী পূর্বক মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে ছেড়ে দেয়। উক্ত ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে সন্ত্রাসীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন নুরুল কবিরের বাসার সামনে এসে তাকে কিরিচ দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় তার স্ত্রীকেও ব্যাপক মারধর করে সন্ত্রাসীরা। উক্ত ঘটনায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকে সন্ত্রাসীরা নূরুল কবিরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য প্রতিনিয়ত হুমকী দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ডিশ-ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তার ব্যবসা বন্ধ করে দেয়। সন্ত্রাসীদের হামলার ভয়ে প্রাণ বাঁচাতে নুরুল কবির অন্যত্র বসবাস করলেও তার স্ত্রী-সন্তানেরা বাসায় থাকতেন।
গত ২৮ আগষ্ট জুমার নামাজের সময় অপু-সোহেলের নেতৃত্বে ১০/১২ জনের একটি ডাকাতদল ডাকাতির উদ্দেশ্যে নুরুল কবিরের বাড়ির সিসি ক্যামরা ভাংচুর করে বাসায় ঢুকে কবিরের স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রেখে নগদ ৬ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা এবং স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। অজানা কারণে পুলিশ চুরির মামলা (নং ২৪(৮)২৬) গ্রহণ করে। এতে এমরান, ফয়সাল, ইলিয়াস হোসেন অপু, জয়নাল আবেদীন সোহেল, আনোয়ার, রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়। ৩০ আগষ্ট দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এজাহারনামীয় আসামি রবিউল হাসান, জালাল আহম্মেদ পারভেজ এবং ফয়সালকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করেন। পরে তারা জামিনে বেরিয়ে আসে।








