,

প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা, মিলল ৪০ লাখ জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প

প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা, মিলল ৪০ লাখ জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প

প্রিন্টিং মেশিন আমদানির ঘোষণা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা একটি চালানে মিলেছে ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প ও বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার যৌথ পরীক্ষায় এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক হিসাবে চালানটিতে সরকারের প্রায় ৪৬ কোটি টাকার রাজস্ব ঝুঁকি শনাক্ত হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৩, ব্লক-এ, শপ নম্বর 3C004A ঠিকানায় অবস্থিত ‘চায়না মার্ট’ নামের প্রতিষ্ঠানটি চালানটি আমদানি করে। গত ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। আমদানি নথিতে চালানটির পণ্য হিসেবে প্রিন্টিং মেশিনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
তবে গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিআইসি ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখার কর্মকর্তারা যৌথভাবে চালানটি কায়িক পরীক্ষা করে ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের কোনো মিল পাননি। চালানটিতে ঘোষিত প্রিন্টিং মেশিনের পরিবর্তে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী ও সিগারেটের জাল স্ট্যাম্প।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, চালানটি থেকে ৪০ লাখ ৮০ হাজার পিস জাল সিগারেটের স্ট্যাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। এসব স্ট্যাম্প নিম্নস্তরের ২০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটে ব্যবহারের উপযোগী। দেশে এ ধরনের এক প্যাকেট সিগারেটের নির্ধারিত খুচরা মূল্য ১৩০ টাকা। এর বিপরীতে সরকার রাজস্ব পায় ১০৬ টাকা ৬০ পয়সা।

সংশ্লিষ্ট হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকারের প্রায় ৪৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারত। এ ছাড়া চালানে পাওয়া প্রসাধনী সামগ্রীর বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির বিষয়টি চিহ্নিত হয়েছে। সব মিলিয়ে চালানটিতে সম্ভাব্য রাজস্ব ঝুঁকির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিগারেট উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। একই সঙ্গে বৈধভাবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণনে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজস্ব আদায় এবং বৈধ বাণিজ্যিক পরিবেশের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।

কাস্টমস হাউস চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার মো. তারেক মাহমুদ বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এআইআর শাখা যৌথভাবে চালানটি আটক করে কায়িক পরীক্ষা করেছে। গত বৃহস্পতিবার কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করছি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে শুল্ক-কর ফাঁকি এবং জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপন করবো।
এনবিআর জানিয়েছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পণ্যের ভুল ঘোষণা, শুল্ক-কর ফাঁকি এবং অবৈধ পণ্য বাজারজাতকরণ প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও ঝুঁকিভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।