
চট্টগ্রামের লাইফ লাইন কর্ণফুলী নদীতে দখল ও দূষণের মহোৎসব চলছে। কোনোভাবেই যেন থামছে না এ প্রতিযোগিতা।অব্যাহত দখলের কারণে তার অস্থিত্ব হুমকির মুখে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বরকল উপজেলার থাগা মুখ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কর্ণফুলী নদী। বাংলাদেশ অংশে ১৬১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অতঃপর মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।৮৬৬ মিটার প্রস্থের এই নদী এখন ৪১০ মিটারে দাঁড়িয়েছে।নদীর দুই তীরে ২ হাজার ৪৯২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ খ্যাত এ নদী দখলে-দূষণে আজ বিপর্যস্ত। দিন দিন বাড়ছে নদীর জায়গা দখল আর দূষণ। শহরকেন্দ্রিক এলাকাতেই বাড়ছে দখল-দূষণ। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এ নদীর দখল ও দূষণ নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গবেষণা হলেও এর জন্ম ও উৎপত্তিস্থল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তুলনামূলক চিত্র নিয়ে এর আগে কোনো গবেষণা হয়নি।
কর্ণফুলী নদী ভরাট হওয়ার কারণে প্রভাব পড়ছে নগরীর কয়েকটি খালে। ভাটার সময় খাল থেকে পলিথিনসহ নানা বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ে। আবার জোয়ারের সময় নদীর বর্জ্য খালে চলে আসে। এ কারণে নগরীর খালগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্জ্যের কারণে নদীর বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।এ ছাড়াও শাহ আমানত সেতুর আশপাশে গড়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ স্থাপনার কারণে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পলিথিন, গৃহস্থালি বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য নদীতে এসে পড়ায় কর্ণফুলী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীতে ড্রেজিং করেও স্থায়ী সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আজ ড্রেজিং করলে কাল আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদী ভরাট হওয়ার পাশাপাশি পানিদূষণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই নদীতে আগে তিন শতাধিক প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছের প্রজাতি ৭০-এর নিচে নেমে এসেছে।
বর্তমানে নগরীতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় বেশকিছু খাল খনন করা হচ্ছে। চাক্তাই খালের সামনের অংশও খনন করা হয়েছে। কিন্তু খালের উজান থেকে আসা বর্জ্য ও পলিথিনের কারণে খালের মুখ ফের ভরাট হয়ে সরু হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালের দুই পাশেই রয়েছে অসংখ্য বসতঘর ও বস্তি, যার বাসিন্দারা সব সময় গৃহস্থালি আবর্জনা খালে ফেলে। ভাটার টানে এসব আবর্জনা নদীতে গিয়ে পড়ছে।
রিভার এন্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান ও প্রধান গবেষক মোহাম্মদ এজাজ বলেছিলেন, ‘কর্ণফুলী নদী একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্টে নদীর কিছু কিছু হটস্পটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে বিচ্ছিন্নভাবে জরিপ করা হয়েছে। কিন্তু নদীটি রক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ কোনো গবেষণা এর আগে হয়নি। কর্ণফুলীর অববাহিকা থেকে শুরু করে সাগরের মোহনা পয়েন্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ নদীর ১৭টি প্যারামিটার সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে জিওলোকেশন আইডেন্টিফাই করার উদ্দেশ্যে আমরা একটা সার্ভে করছি। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্ণফুলীকে রক্ষার জন্য যারা কাজ করবে বা করছেন তাদের জন্য আমাদের এ গবেষণা সহায়ক তথ্য ভাণ্ডার হিসেবে কাজে লাগবে।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে আধুনিক স্যুয়ারেজ সিস্টেম না থাকায় পয়ঃবর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে নদীতে। এতে কর্ণফুলীর দূষণের মাত্রাও বাড়ছে। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন আবাদি জমিতে ব্যবহূত কীটনাশকের ২৫ শতাংশ ৩০টি শাখা খালের মাধ্যমে কর্ণফুলীতে চলে আসে। সিটি করপোরেশনের সলিড ডাম্পিং স্টেশন থেকে বর্জ্যের নির্যাস বর্ষা মৌসুমে কর্ণফুলী নদীতে চলে আসে। তাছাড়া নদীতে চলাচলকারী ১ হাজার ২০০ ছোট লাইটার জাহাজ, শতাধিক অয়েল ট্যাংকার, ইঞ্জিনচালিত সাড়ে ৩ হাজার নৌকার বর্জ্য প্রতিনিয়ত কর্ণফুলীর পানির সঙ্গে মিশছে। নদীতে চলাচলরত নৌযানের পোড়া তেল এবং দুই তীরের বিশাল এলাকার প্রায় ৬০ লাখ অধিবাসীর গৃহস্থালি বর্জ্যও গিয়ে পড়ছে কর্ণফুলীতে।
কর্ণফুলী নদীর পানি দূষণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে ১৬টি শিল্প জোনে ছোট-বড় হাজার খানেক শিল্প কারখানা রয়েছে।তবে নদীর দুই তীরে ২ হাজার ৪৯২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। চামড়ার আড়ত, টেক্সটাইল কারখানা, কেমিক্যাল কারখানা, মত্স্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা, সাবান কারখানা, স্টিল মিল, কর্ণফুলী পেপার মিলসহ (কেপিএম) কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পেপার মিল, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) কারখানা, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), কোমলপানীয় কারখানা, রং কারখানা, সিমেন্ট কারখানাসহ প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কারখানার বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলীর পানি দূষিত করছে। এসব কারখানার প্রায় কোনোটাই তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ইটিপি) ব্যবহার করে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা, কদমতলী, শিলক, কোদলা, সরফভাটা, মরিয়ম নগর, পারুয়া, বোয়ালখালীর কালুরঘাট,চরণদ্বীপ, খরনদ্বীপ, কধুরখীল, পশ্চিম গোমদন্ডী , আমুচিয়া, পশ্চিম পটিয়ার শিকলবাহ, কালারপুল, ডাঙ্গারচর, খোয়াজনগর, চরপাথরঘাটা,ইছানগর, নগরীর মোহরা, কালুরঘাট পশ্চিম, বাংলাবাজার, জলিলগঞ্জ, ফিরিঙ্গিবাজার ও ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী দখল হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নদীর দু’তীর ভরাট করে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় ১৭ বছর সন্ত্রাসী, তাদের নেতা-কর্মী ও ভূমিদস্যু এ দখল প্রক্রিয়া চালায়।তখন দখলকৃত জায়গায় গড়ে তুলছে তারা কারখানা, মিল , দোকানপাট, বালু-পাথর-বাঁশও কাঠের আড়তসহ অবৈধসব প্রতিষ্ঠান। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে কর্ণফুলীর দু’তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনার সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের চেয়ে বেশি।এর ফলে কর্ণফুলীর বুকে নতুন নতুন চর জেগে উঠছে।
কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণ মুক্ত, অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীর অপরিকল্পিত ব্যবহার, শিল্প কলকারখানা অপরিশোধিত রাসায়নিক ও ডায়িংয়ের বিষাক্ত বর্জ্য থেকে কর্ণফুলীকে বাঁচাতে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন।মানববন্ধনে একই সাথে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরের দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নতুন করে কর্ণফুলী দখল বন্ধ করা এবং সদরঘাট সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
পড়েছেনঃ 62
দখল-দূষণে বিপন্ন কর্ণফুলী
চট্টগ্রামের লাইফ লাইন কর্ণফুলী নদীতে দখল ও দূষণের মহোৎসব চলছে। কোনোভাবেই যেন থামছে না এ প্রতিযোগিতা।অব্যাহত দখলের কারণে তার অস্থিত্ব হুমকির মুখে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বরকল উপজেলার থাগা মুখ এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কর্ণফুলী নদী। বাংলাদেশ অংশে ১৬১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে অতঃপর মিশেছে বঙ্গোপসাগরে।৮৬৬ মিটার প্রস্থের এই নদী এখন ৪১০ মিটারে দাঁড়িয়েছে।নদীর দুই তীরে ২ হাজার ৪৯২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ খ্যাত এ নদী দখলে-দূষণে আজ বিপর্যস্ত। দিন দিন বাড়ছে নদীর জায়গা দখল আর দূষণ। শহরকেন্দ্রিক এলাকাতেই বাড়ছে দখল-দূষণ। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে এ নদীর দখল ও দূষণ নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি গবেষণা হলেও এর জন্ম ও উৎপত্তিস্থল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তুলনামূলক চিত্র নিয়ে এর আগে কোনো গবেষণা হয়নি।
কর্ণফুলী নদী ভরাট হওয়ার কারণে প্রভাব পড়ছে নগরীর কয়েকটি খালে। ভাটার সময় খাল থেকে পলিথিনসহ নানা বর্জ্য নদীতে গিয়ে পড়ে। আবার জোয়ারের সময় নদীর বর্জ্য খালে চলে আসে। এ কারণে নগরীর খালগুলোও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বর্জ্যের কারণে নদীর বিভিন্ন স্থানে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে।এ ছাড়াও শাহ আমানত সেতুর আশপাশে গড়ে ওঠা বৈধ-অবৈধ স্থাপনার কারণে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি পলিথিন, গৃহস্থালি বর্জ্য, কলকারখানার বর্জ্য নদীতে এসে পড়ায় কর্ণফুলী ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নদীতে ড্রেজিং করেও স্থায়ী সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। আজ ড্রেজিং করলে কাল আবার ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নদী ভরাট হওয়ার পাশাপাশি পানিদূষণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই নদীতে আগে তিন শতাধিক প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছের প্রজাতি ৭০-এর নিচে নেমে এসেছে।
বর্তমানে নগরীতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় বেশকিছু খাল খনন করা হচ্ছে। চাক্তাই খালের সামনের অংশও খনন করা হয়েছে। কিন্তু খালের উজান থেকে আসা বর্জ্য ও পলিথিনের কারণে খালের মুখ ফের ভরাট হয়ে সরু হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালের দুই পাশেই রয়েছে অসংখ্য বসতঘর ও বস্তি, যার বাসিন্দারা সব সময় গৃহস্থালি আবর্জনা খালে ফেলে। ভাটার টানে এসব আবর্জনা নদীতে গিয়ে পড়ছে।
রিভার এন্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টারের (আরডিআরসি) চেয়ারম্যান ও প্রধান গবেষক মোহাম্মদ এজাজ বলেছিলেন, ‘কর্ণফুলী নদী একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রজেক্টে নদীর কিছু কিছু হটস্পটে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আকারে বিচ্ছিন্নভাবে জরিপ করা হয়েছে। কিন্তু নদীটি রক্ষার জন্য পূর্ণাঙ্গ কোনো গবেষণা এর আগে হয়নি। কর্ণফুলীর অববাহিকা থেকে শুরু করে সাগরের মোহনা পয়েন্ট পর্যন্ত সম্পূর্ণ নদীর ১৭টি প্যারামিটার সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে জিওলোকেশন আইডেন্টিফাই করার উদ্দেশ্যে আমরা একটা সার্ভে করছি। যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কর্ণফুলীকে রক্ষার জন্য যারা কাজ করবে বা করছেন তাদের জন্য আমাদের এ গবেষণা সহায়ক তথ্য ভাণ্ডার হিসেবে কাজে লাগবে।
নদী বিশেষজ্ঞরা বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে আধুনিক স্যুয়ারেজ সিস্টেম না থাকায় পয়ঃবর্জ্য সরাসরি গিয়ে পড়ছে নদীতে। এতে কর্ণফুলীর দূষণের মাত্রাও বাড়ছে। অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন আবাদি জমিতে ব্যবহূত কীটনাশকের ২৫ শতাংশ ৩০টি শাখা খালের মাধ্যমে কর্ণফুলীতে চলে আসে। সিটি করপোরেশনের সলিড ডাম্পিং স্টেশন থেকে বর্জ্যের নির্যাস বর্ষা মৌসুমে কর্ণফুলী নদীতে চলে আসে। তাছাড়া নদীতে চলাচলকারী ১ হাজার ২০০ ছোট লাইটার জাহাজ, শতাধিক অয়েল ট্যাংকার, ইঞ্জিনচালিত সাড়ে ৩ হাজার নৌকার বর্জ্য প্রতিনিয়ত কর্ণফুলীর পানির সঙ্গে মিশছে। নদীতে চলাচলরত নৌযানের পোড়া তেল এবং দুই তীরের বিশাল এলাকার প্রায় ৬০ লাখ অধিবাসীর গৃহস্থালি বর্জ্যও গিয়ে পড়ছে কর্ণফুলীতে।
কর্ণফুলী নদীর পানি দূষণও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে ১৬টি শিল্প জোনে ছোট-বড় হাজার খানেক শিল্প কারখানা রয়েছে।তবে নদীর দুই তীরে ২ হাজার ৪৯২টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। চামড়ার আড়ত, টেক্সটাইল কারখানা, কেমিক্যাল কারখানা, মত্স্য প্রক্রিয়াজাত কারখানা, সাবান কারখানা, স্টিল মিল, কর্ণফুলী পেপার মিলসহ (কেপিএম) কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পেপার মিল, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি (সিইউএফএল), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) কারখানা, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো), কোমলপানীয় কারখানা, রং কারখানা, সিমেন্ট কারখানাসহ প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ কারখানার বর্জ্য সরাসরি কর্ণফুলীর পানি দূষিত করছে। এসব কারখানার প্রায় কোনোটাই তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (ইটিপি) ব্যবহার করে না।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা, কদমতলী, শিলক, কোদলা, সরফভাটা, মরিয়ম নগর, পারুয়া, বোয়ালখালীর কালুরঘাট,চরণদ্বীপ, খরনদ্বীপ, কধুরখীল, পশ্চিম গোমদন্ডী , আমুচিয়া, পশ্চিম পটিয়ার শিকলবাহ, কালারপুল, ডাঙ্গারচর, খোয়াজনগর, চরপাথরঘাটা,ইছানগর, নগরীর মোহরা, কালুরঘাট পশ্চিম, বাংলাবাজার, জলিলগঞ্জ, ফিরিঙ্গিবাজার ও ব্রিজঘাট এলাকায় কর্ণফুলী দখল হয়েছে সবচেয়ে বেশি। নদীর দু’তীর ভরাট করে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় ১৭ বছর সন্ত্রাসী, তাদের নেতা-কর্মী ও ভূমিদস্যু এ দখল প্রক্রিয়া চালায়।তখন দখলকৃত জায়গায় গড়ে তুলছে তারা কারখানা, মিল , দোকানপাট, বালু-পাথর-বাঁশও কাঠের আড়তসহ অবৈধসব প্রতিষ্ঠান। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে কর্ণফুলীর দু’তীরে অবৈধভাবে গড়ে উঠা স্থাপনার সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারের চেয়ে বেশি।এর ফলে কর্ণফুলীর বুকে নতুন নতুন চর জেগে উঠছে।
কর্ণফুলী নদী দখল ও দূষণ মুক্ত, অবৈধ বালু উত্তোলন, নদীর অপরিকল্পিত ব্যবহার, শিল্প কলকারখানা অপরিশোধিত রাসায়নিক ও ডায়িংয়ের বিষাক্ত বর্জ্য থেকে কর্ণফুলীকে বাঁচাতে মানববন্ধন করে বিভিন্ন সংগঠন।মানববন্ধনে একই সাথে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর উভয় তীরের দুই সহস্রাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, নতুন করে কর্ণফুলী দখল বন্ধ করা এবং সদরঘাট সংস্কারের দাবি জানানো হয়।
সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমবায়কে আরও ভূমিকা রাখতে হবে–ভূমি প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রীর রেইনবোনেশনের রোল মডেল হবে “চট্টগ্রাম শহর”-ডা. শাহাদাত
৭ নভেম্বরের চেতনা থেকেই বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার যাত্রা শুরু হয়েছিল—ভূমি প্রতিমন্ত্রী
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে চট্টগ্রাম মহানগর জাসাসের শ্রদ্ধাঞ্জলি
জুলাই যোদ্ধা পরিবারের পাশে নেতৃবৃন্দ
চবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম ওয়াসায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিল্পব ও সংহিত দিবস পালিত
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত