
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন,‘পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের সরকারের নানা পরিকল্পনার রয়েছে। দেশে আর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না। অর্থনৈতিকভাবে উত্তোলনের পথে হাঁটবে দেশ। দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে।’তিনি আগামীতে দেশের শেয়ারবাজার ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানিয়েছেন ।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন,এতদিন যারা সুযোগ নিয়ে বাকি জনগণকে বঞ্চিত করেছে সেটা আমরা করতে চাই না। আমরা চাই এমন বাজেট হবে যেখানে জনগণের আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনীতির সুফল, উন্নয়নের সুফল বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে।
বাজেট প্রণয়নে সেটা নিশ্চিত করা হবে আমাদের প্রথম দায়িত্ব।
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রাম সফরে আসেন।সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত করবেন তিনি।এরপর জুমার নামাজ আদায় করবেন নগরের কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে।
তিনি বলেন,নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সময় এসেছে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী করার। বিনিয়োগের মাধ্যমেই চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করা হবে। এখানে বিনিয়োগের অনেক বড় ব্যাপার আছে, সেদিকে আমাদের যেতে হবে। বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে; কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন,পোর্টের কার্যক্রম আরও উন্নততর করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।বিনিয়োগের মাধ্যমেই তো বাণিজ্যিক রাজধানী হবে।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলোতো এক কথায় বলা যাবে না।সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান।
আমীর খসরু আরও বলেন, ‘অনেক পরিকল্পনা আছে। এগুলো এক কথায় বলা যাবে না। তবে দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থান। জনগণ যেভাবে অর্থনীতি সুফল পাবে; সরকার সেই পথেই হাঁটবে। অর্থনীতিকে আমরা মুক্ত করতে চাই।’
পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার যে একটু বেড়েছে এটা সুখবর নিশ্চয়। তবে এ বাড়াতে শেয়ারবাজার চাঙা হবে না। এটাকে ইংরেজিতে বলে কজমেটিক। আমি এ বাড়াতে কিছু হয়ে গেছে এটা বলতে চাই না। এটা হয়তো কনফিডেন্স বেড়েছে, একটা গণতান্ত্রিক সরকার এসেছে বিশেষ করে বিএনপি অর্থনৈতিক ম্যানেজমেন্টে সবসময় ভালো করেছে বোধহয় জনগণের আস্থার কারণে হয়েছে। কিন্তু এ বাড়াটা আমি বাড়া বলবো না। এটা কজমেটিক বাড়া। শেয়ারবাজারে পূর্ণাঙ্গ একটা পরিবর্তন আনতে হবে। শেয়ারবাজারকে নিয়ে, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন নিয়ে অনেক আইন কানুন পরিবর্তন করে শেয়ারবাজারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। যাতে ভালো শেয়ার বাজারে আসে।
মেগা প্রকল্প ও দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা যে জায়গায় আছে খুবই খারাপ অবস্থা। যেখানে দারিদ্র্য বাড়ছে।ইনডিকেটর, মানদণ্ড যেখানে দেখাচ্ছে দারিদ্র্য বাড়ছে। বিনিয়োগ কমছে। কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনীর আমদানি কমিয়ে দিয়েছে, ঋণ কম নিচ্ছে।
এগুলো সব মিলে অর্থনীতি খুব একটা খারাপ অবস্থায় আছে। এখান থেকে উত্তরণের জন্য যে বিষয়গুলো তা আমাদের প্রোগ্রামে আগে দিয়েছি। সেগুলো আমি নতুন করে বলতে চাই না। আমরা অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই। অর্থনীতিকে জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই।এই যে ওভার রেগুলেটেড করে কিছু লোক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে সুযোগ নিয়েছে সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটাই হবে মূল উদ্দেশ্য।
ঋণের চাপ তো অনেক বড়। সবচেয়ে বড় হচ্ছে, ঋণ নিয়েছে ভালো প্রজেক্টে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রজেক্ট করেছে। এ টাকাগুলো বাইরে চলে গেছে। সুতরাং যে জিনিসটা নেই সেটার দায় এখন পরিশোধ করতে হবে এ সরকারকে। যে জিনিসটা উপস্থিত নেই, যে জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলেছে তার দায় বহন করতে হবে বর্তমান সরকারকে। এটা কঠিন একটা ব্যাপার।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম চট্টগ্রামে আসার অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ ভালো লাগছে। আমরা গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরে এসেছি।
একটি নির্বাচিত সংসদ, সরকার হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সকলে মিলে কাজ করতে হবে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।
নগরীর মেহেদিবাগে নিজ বাসভবনে বেলা আড়াইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় করেন অর্থমন্ত্রী। একই স্থানে বিকেলে তিনটায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।







