জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে থাকছে না কোন আলোকসজ্জা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জ্বালানি সাশ্রয়ে স্বাধীনতা দিবসে থাকছে না কোন আলোকসজ্জা-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আসন্ন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এ বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া ‘কৃচ্ছ্রসাধন’ নীতির অংশ হিসেবে এই বিশেষ পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সভাটি মূলত আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য আহ্বান করা হয়েছিল।

২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল দিন। প্রতি বছর এই দিনটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি ভবন, স্মৃতিসৌধ এবং প্রধান সড়কগুলো বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়। লাল-সবুজের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে গোটা বাংলাদেশ। তবে ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্‌যাপনে আমাদের একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে আলোকসজ্জা করার। কিন্তু বর্তমানে দেশে যে জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে, তা বিবেচনায় নিয়ে আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। সরকার কৃচ্ছ্রসাধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাই এবার কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা হবে না।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, উৎসবের জৌলুস কমানো হলেও দিবসের মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে অন্যান্য কর্মসূচি পালিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই এই সিদ্ধান্ত। ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে (যা আজ সকালেই অন্য এক প্রতিবেদনে আলোচিত হয়েছে), তার প্রভাব বাংলাদেশের নীতি নির্ধারণে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সরকার চাইছে উৎসবের পেছনে বিদ্যুৎ ব্যয় না করে তা শিল্প উৎপাদন ও সেচ কাজে ব্যবহার করতে।

স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল ফিতর নিয়েও সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঈদের ছুটিতে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়ক, রেল স্টেশন এবং লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হবে। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ টহল দল কাজ করবে। পরিবহন খাতে এবং পশুর হাটে (যদি প্রযোজ্য হয়) চাঁদাবাজি বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

স্বাধীনতা দিবসে আলোকসজ্জা না করার এই সিদ্ধান্তকে অনেকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। নাগরিকদের মতে, সংকটকালে রাষ্ট্রের এমন সাশ্রয়ী ভূমিকা জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে। তবে বিরোধী রাজনৈতিক মহলের মতে, জ্বালানি খাতের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবেই আজ বিজয় বা স্বাধীনতার উৎসবেও আঁধার রাখতে হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তিনি দেশবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

২৬ মার্চের আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা কেবল একটি প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে বাংলাদেশের খাপ খাইয়ে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। বিজয়ের আলো আমাদের হৃদয়ে থাকবে, কিন্তু বাস্তবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সাময়িক অন্ধকার বা ম্লান ভাব মেনে নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email