চট্টগ্রামে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির আভাস শনিবার পর্যন্ত

চট্টগ্রামে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টির আভাস শনিবার পর্যন্ত

সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় প্রবল মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজ থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা দেয়া হয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময়ে মোট বৃষ্টিপাত ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায় ২৭৭ মিলিমিটার, বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার, রাঙামাটিতে ১৬৫ মিলিমিটার এবং কক্সবাজারে ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় কক্সবাজারের টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৭, ৮, ৯ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড এবং বাঁশখালী উপজেলা, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, লামা ও বান্দরবান সদর উপজেলা এবং রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলাকে ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্দেশনা মেনে চলতে এবং নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাহাড়ের ঢাল বা অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, মোমবাতি, দিয়াশলাই এবং অন্তত তিন দিনের কাপড় সাথে রাখতে বলা হয়েছে। মূল্যবান কাগজপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ, মোবাইল ফোন চার্জ দিয়ে রাখা, পাওয়ার ব্যাংক প্রস্তুত রাখা, পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং গবাদিপশু ও পোষা প্রাণী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরো জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই নদী বা ঝিরির কাছাকাছি অবস্থান না করা, ঘরের আশপাশের নালা ও পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সুবিধা ও বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত সতর্কবার্তা প্রচারের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email