চবি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চবি ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস

চবি উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চবি ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস (IFESCU) ‘পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার’ ক্যাটাগরিতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫ অর্জন করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশে পরিবেশ বিজ্ঞান শিক্ষা, বনবিদ্যা শিক্ষা, গবেষণা এবং পরিবেশ সচেতনতা বিস্তারে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে এ রাষ্ট্রীয় সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করেছেন।

আজ রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষকমণ্ডলীর উপস্থিতিতে পদক, সনদ ও ক্রেস্ট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান-এর নিকট উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও ইনস্টিটিউটের বরিষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় ইনস্টিটিউটের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আগামী পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে কার্যকর নেতৃত্বের ভূমিকা রাখতে ইনস্টিটিউটের সকলকে আহ্বান জানান।

এর আগে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছ থেকে পদকটি গ্রহণ করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। পদকের অংশ হিসেবে দুই তোলা ওজনের স্বর্ণপদকের সমপরিমাণ অর্থমূল্য, পঞ্চাশ হাজার টাকা পুরস্কার, একটি ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

পদক প্রদানকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরিচালক জানান,  প্রধানমন্ত্রীর পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এই ইনস্টিটিউটের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় এবং বর্তমান কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন তাঁর মাতা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ বছর ইনস্টিটিউটের বনবিদ্যা প্রোগ্রামের ৫০ বছর এবং পরিবেশ বিজ্ঞান প্রোগ্রামের ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে। সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী ২৫-২৬ ডিসেম্বর ২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠেয় আয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আমন্ত্রণ জানান পরিচালক।

মিয়াওয়াকি ফরেস্ট নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রেক্ষিতে তাঁকে জানানো হয়, নেদারল্যান্ডসভিত্তিক তেইজিন আরামিডের কার্বন অফসেট প্রকল্পের আওতায় বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দেশের প্রথম পরীক্ষামূলক ও শিক্ষণকেন্দ্রিক মিয়াওয়াকি ফরেস্ট্র স্থাপন করেছে ইনস্টিটিউট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা সরেজমিনে দেখতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং ছোট পরিসরে মিয়াওয়াকি প্রকল্প বাস্তবায়নে ইনস্টিটিউটের সহযোগিতা চাইলে পরিচালক ইনস্টিটিউটের আন্তরিক আগ্রহের কথা জানান।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ পাহাড়ি ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে IFESCU শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি মাঠভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান—দুই বিষয়ে আলাদা আলাদা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা এবং এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। ১৯৮৩ সাল থেকে ক্যাম্পাসের পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কার্বন শোষণের একটি সমৃদ্ধ সবুজ পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে। শিক্ষার্থী-পরিচালিত Youth Volunteer for Environment, Earthen ও GreenWave ক্লাবগুলো বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ শিক্ষা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email