
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, সরকার এদেশের জনগণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দিতে চায় এবং কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে পৃথিবীব্যাপী বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
আজ রবিবার খাগড়াছড়ি জেলার মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ আয়োজিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিন পার্বত্য জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে সরকারের ত্রাণ বিতরণ ও বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার জন্য কর্মসূচির অংশ হিসাবে আজ খাগড়াছড়ি জেলা ও উপজেলার মহালছড়ির চৌংড়াছড়ি সরজমিন পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রীর ।
এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন আগের ফ্যাসিস্ট সরকার ভোটের রাজনীতি না করে খুন, গুম, অবিচার, জেল, জুলুম ও নির্যাতন চালিয়ে দেশের প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দীর্ঘ ১৭ বছর অকার্যকর করে রেখেছিল। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিন্তায়, মননে একটি কথাই বলতেন—বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ও তার সরকার সবসময়ই থাকবে। প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল আরও যোগ করে বলেন, আমরা বিরোধী দলে থাকা অবস্থায়ও অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে ছিলাম এবং আজীবন থাকব। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দুর্যোগ প্রবণ এলাকাগুলোতে আমরা মন্ত্রিপরিষদ, জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে দল-মত নির্বিশেষে সকলেই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি।
বন্যা কবলিত খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি বাজারেও স্বল্পমূল্যে খোলা বাজারে চাল,আটা বিক্রয় ওএমএস কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য সরকারের এই কর্মসূচি এবং স্বল্প মূল্যে সরকারের এই কর্মসূচি দেশব্যাপী শুরু হবে আগামী আগস্ট মাস থেকে।
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ।
এসময় গণমাধ্যমকে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খোঁজখবর রাখছেন। বিপদে আপদে তাদের পাশে আছেন। তারা কিভাবে ঘুড়ে দাঁড়াতে পারে সে ব্যাপারে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাসে মাসে কিস্তি দেন তাদেরকে নুন্যতম এক মাসের কিস্তি সুদসহ মওকুফ করতে সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের তালিকা করে তাদের অবস্থা ঘুরে দাঁড়াতে সরকার সহায়তা করবে।
সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার আগাম পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে সরকার পার্বত্য তিন জেলায় ১৩০০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬০ লক্ষ টাকা বিতরণ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার ফলে অনেক জানমাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়েছে। গবাদি পশুর জন্য বিনা মূল্যে ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। আজ থেকে বন্যা কবলিত এলাকায় খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খোলা বাজারে সুলভ মূল্যে চাল ও আটা বিক্রয় শুরু হয়েছে।
তাছাড়া পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রেইনবো জাতি গঠনে যে স্বপ্ন দেখছেন তাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
ত্রাণ বিতরণকালে খাগড়াছড়ি জেলা হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঞা, জেলা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফলিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ্ আহাম্মদসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরে খাগড়াছড়ি জেলা সার্কিট হাউসে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার বন্যা পরবর্তী সার্বিক বিষয়ে করণীয় বিষয়ক জেলার বিভিন্ন দপ্তরের দপ্তর প্রধান , রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
………………………………………..……..
রেজুয়ান/বাপ্পী/আরাফাত/রাজ্জাক/২০২৬/২১.০০ টা ঘন্টা







