,

চট্টগ্রাম বন্দর বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি রোধে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা 

চট্টগ্রাম বন্দর বহিঃনোঙরে ছিঁচকে চুরি রোধে বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা 

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে বেশ কিছু ছিঁচকে চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়টি যথাযথভাবে আমলে নিয়ে এবং এ সংক্রান্ত বিষয়ে যথাযথ করণীয়, প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখ বন্দর ভবনে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনা বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনা করে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

বহিঃনোঙরে সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া এ ধরনের ছিঁচকে চুরি সম্পূর্ণ নির্মূল ও সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের যৌথ উদ্যোগে প্রতিনিয়ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্ক্র্যাপ জাহাজে কঠোর নজরদারির অংশ হিসেবে চুরি রুখতে জরিমানা ও কঠোর তদন্তের বিধান এবং কোস্ট গার্ডকে সময়মতো জাহাজের আগমনের তথ্য (ETA) প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগের ক্ষেত্রে চুরি রোধে সকল শিপিং এজেন্ট ও জাহাজ মালিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি প্রতিটি জাহাজে বন্দর অনুমোদিত প্রশিক্ষিত ওয়াচম্যান নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যৌথ অভিযান ও অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে ভিটিএমআইএস (VTMIS)-এর মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময়, যৌথ টহল বৃদ্ধি, বহিঃনোঙরে অননুমোদিত ফিশিং ও অবৈধ পণ্য ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ এবং কোস্ট গার্ডকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে। উক্ত বৈঠকে সকল শিপিং এজেন্টকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত ওয়াচম্যান নিয়োগ করা এবং বৈধ শিপস চ্যান্ডলারদের (Ship’s Chandler) মাধ্যমে লজিস্টিকস ও বাংকারিং করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।

এই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহের আলোকে নির্ধারিত কার্যক্রমের ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বহিঃনোঙর এলাকায় ছিঁচকে চুরি বা এই ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড রোধকল্পে একটি সমন্বিত ও জোরালো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। ফলশ্রুতিতে, সকল পোর্ট ইউজার এবং পণ্য ব্যবসায়ীদের কাছে এটি একটি নিরাপদ বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে সভায় সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম বন্দর একটি শতভাগ আইএসপিএস কোড (ISPS Code) কমপ্লায়েন্ট এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সুরক্ষিত কেপিআই (KPI) এলাকা। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বন্দরের মূল চ্যানেল এবং বহিঃনোঙরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বদা সুরক্ষিত ও সুসংহত রয়েছে।