
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন।
রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশ নেন মেয়র। র্যালিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ জসিম উদ্দিন, বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডাঃ খুরশিদ জামিল চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনসহ চিকিৎসক, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। র্যালি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে কলেজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। ১৯৫৭ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শুধু একটি চিকিৎসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি চট্টগ্রামসহ দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই প্রতিষ্ঠান অসংখ্য দক্ষ চিকিৎসক তৈরি করেছে, যারা দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চিকিৎসাসেবা ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত আবেগের ও গৌরবের।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করার যে শিক্ষা ও মূল্যবোধ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে পেয়েছি, তা আমার পেশাগত ও ব্যক্তিজীবনের পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ আজ দেশের চিকিৎসা শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
মেয়র বলেন, সময়ের সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নতুন নতুন রোগ, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং রোগীদের ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিৎসা শিক্ষাকেও আরও আধুনিক ও গবেষণামুখী করতে হবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং রোগীবান্ধব চিকিৎসাসেবার পরিবেশ আরও শক্তিশালী করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চট্টগ্রাম বিভাগের কোটি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের অবকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিকসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চিকিৎসকদের আরও দক্ষ, মানবিক ও জনবান্ধব চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কলেজ দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ জসিম উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আজ দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল ও কলেজে দায়িত্ব পালন করছে এবং দেশের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য বান্ধব সরকার, স্বাস্থ্য সেবা যাতে সাধারণ মানুষ পায় সেই কাজ সরকার করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। দীর্ঘ পথচলায় প্রতিষ্ঠানটি দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রতিবছর দিনটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ দিবস হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপন করা হয়। র্যালির পরে চিকিৎসকদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।







