
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, শিক্ষকদের মর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে আজ হোক বা কাল, জাতীয়করণ হবেই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট’ আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
১৭ বছরের দুর্নীতি বন্ধ করে জনকল্যাণে কাজ করছে সরকার: মঈন খান
মীর শাহে আলম স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আমলেই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণের এই দাবি বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নবায়নযোগ্য শক্তির একটি যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ছাদ ব্যবহার করে ৫.৫ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।
এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ছুটির দিনে ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবে। বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
মীর শাহে আলম বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র ৭ মাস। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে এই সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় ১ লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার হাতে দ্রুত অবসরকালীন ভাতা তুলে দিতে ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষকদের একটি সুশৃঙ্খল ও বৃহৎ জাতীয় সমাবেশ আয়োজনের পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ প্রক্রিয়ার জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭ থেকে ৮ শ কোটি টাকা প্রয়োজন। মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পৌঁছালে সরকার অবশ্যই আপনাদের এই দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের বিষয়ে চলমান বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো আইনি বা নীতিগত বাধা নেই।
সম্মেলনে শিক্ষকদের সার্বজনীন সামাজিক মর্যাদার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষকই একমাত্র পেশা যা পৃথিবীর অন্য সব পেশার জন্ম দেয়। শিক্ষকরাই সমাজের মূল চালিকাশক্তি ও গণতন্ত্রের বার্তাবাহক। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্নকারী যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।







