ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ অদ্য ২১ মে,২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)’র ইমরান সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (চমেবি)’র অধীনে চক্ষু হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও)’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আলীম রিফাতের কোরআন তেলাওয়াত ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিপান্বিতা দেবীর শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিইআইটিসি’র উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকবৃন্দের তদারকিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনের আলো জ্বালাতে পারে। সারাদেশে চক্ষু সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, বিশ্বে অপটোমেট্রি বহুল প্রচলিত নাম হলেও আমাদের দেশে এটি একেবারে নতুন। একজন চিকিৎসকের সাথে চারজন অপটোমেট্রিস্ট থাকার কথা থাকলেও দেশে তার সংখ্যা একেবারে সীমিত। তাই বছরে ৫০০ অপটোমেট্রিস্ট তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে নিজেকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।
সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাষ্টি ডা.কিউ.এম.অহিদুল আলম বলেন, মনোযোগী, মেধা শ্রম থাকলে সব কিছুতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এদেশে যে পরিমাণ চক্ষু চিকিৎসক রয়েছে সেই তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই বললেই চলে। তিনি এখান থেকে উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে অপটোমেট্রিস্টরা যাতে সারাদেশে এমনকী বহিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপটোমেট্রি কোর্স শেষ করে তোমরা দেশের বাহিরে গিয়ে মাষ্টার্সও শেষ করতে পারবে এটাই আমার বিশ্বাস। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনার পাশাপাশি উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
আইসিও’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা.মো.মনিরুজ্জামান ওসমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আইসিও’র সহকারী অধ্যাপক ও কোর্স কোডিনেটর (অপ্টোমেট্রি) জুয়েল দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠানে ৫ জন শিক্ষার্থী সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তরুণ-তরুণী শিরোনামে কবিতাটি আবৃতি করেন ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জহুরা ও ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহিন হাসান।
দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজওয়ান শহিদী, মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন, চীফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, আইসিও’র অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোমা রানী রায়। বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক আবদুল হাকিম রানা, নবীণ শিক্ষার্থী আসমা উল হুসনা তানিসা।
আইসিও’র অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মোশরাফাতুল জান্নাত আঁখি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের নবীন ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বরণের পাশাপাশি ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের চুড়ান্ত পরিক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখা ১৪ জন শিক্ষার্থীকে নগদ টাকা বৃত্তি ও শিক্ষা সনদ প্রদান করা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন স্যারের প্রচেষ্টায় এখানে অপটোমেট্রি গ্রেজুয়েশন কোর্স অনেক বছর আগে শুরু হয়েছে। একমাত্র এই চক্ষু হাসপাতালে দেশের প্রথম এই কোর্সটি চালুর পর থেকে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের মত তিনি উন্নয়নশীল দেশে চক্ষু চিকিৎসা সেবায় অপটোমেট্রিস্টদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক শেখ তামিমা হাসান, প্রভাষক জান্নাতুন নূর, প্রভাষক শ্রী প্রণয় রায়, প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস খান, টিচিং এসিসট্যান্ট নিশিতা আফরিন, অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মো. মাঈন উদ্দিন খান ও সনি দাস, সিনিয়র রিসার্স অফিসার তানজিলা সুলতানা, আইসিও’র সহকারী ব্যবস্থাপক (ফিনান্স) মো. জসিম উদ্দিন, সিনিয়র এডমিন অফিসার মো. সাইফুর রহমানসহ আইসিও’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on email