
দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের বিচারহীনতা, আইনি জটিলতা এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর অবসান ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন – বিএইচআরএফ । আজ রবিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের চেয়ারপার্সন অ্যাডভোকেট এলিনা খান এই দাবি জানান। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নির্মম বর্বরতা এবং অতীতে চট্টগ্রামের রাউজানে সীমা চৌধুরী বা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে শিশু তানিয়া ধর্ষণের ঘটনায় তদন্তের ত্রুটি ও বিচার বিলম্বের কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে, যা সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও বেপরোয়া করে তুলছে। এমনকি মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় হলেও তা উচ্চ আদালতে পেপারবুক প্রস্তুত ও শুনানির অপেক্ষায় বছরের পর বছর ঝুলে আছে, যার ফলে রামিসার বাবার মুখ থেকে বের হওয়া ক্ষোভ ও হতাশা জড়ানো উক্তি “আমি বিচার চাই না” মূলত রাষ্ট্র ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের চরম অনাস্থারই এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। বক্তারা দেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থার বেশ কিছু গুরুতর গলদ তুলে ধরে বলেন, সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা বা আইনি অপকৌশলের কারণে ত্রুটিপূর্ণ এজাহার তৈরি, আইন লঙ্ঘন করে ঘটনাস্থলের পরিবর্তে থানা বা মর্গে সুরতহাল করা, ফরেনসিক, পোস্টমর্টেম ও ডিএনএ রিপোর্ট পেতে দুই থেকে তিন বছর পর্যন্ত বিলম্ব হওয়া এবং সাক্ষীদের দুর্বল নিরাপত্তার কারণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে, যা দরিদ্র ও অসচ্ছল বাদীদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি অসম্ভব করে তুলছে। এই ভয়াবহ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি দাবি পেশ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—মামলার ৭ দিনের মধ্যে সুরতহাল, পোস্টমর্টেম ও ভিসেরা সহ যাবতীয় রিপোর্ট সম্পন্ন করা, নির্ধারিত সময়ে রিপোর্ট না এলে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কর্তৃক সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া, আদালতে সাক্ষীদের হয়রানি বন্ধ করে স্বল্প বিরতিতে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা, উচ্চ আদালতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস কর্তৃক এসব মামলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা এবং পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকির জন্য আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি শক্তিশালী ‘বিশেষ মনিটরিং সেল’ গঠন করা। অপরাধীদের কঠোর বার্তা দিতে এবং বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্র, সরকার ও বিচার বিভাগকে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট এ. এম. জিয়া হাবীব আহসান, ডাইরেক্টর অর্গানাইজিং অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, ডাইরেক্টর তাহামিনা তারমিন বিনু এবং ডাইরেক্টর ফাতিমা যাহ্রা আহসান রাইসা।







