
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম থেকে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে। টানা সাতদিনের ছুটির শুরুতেই বাস টার্মিনাল ও রেলওয়ে স্টেশনগুলোতে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। রবিবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো- অতিরিক্ত ভিড় থাকা সত্ত্বেও ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি কমেছে এবং অনেকেই নির্বিঘ্নে যাত্রা করতে পারছেন।
স্টেশনের প্রতিটি ইঞ্চি যেন মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে। ঘরমুখো মানুষের রেলযাত্রা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এরই অংশ হিসেবে গত রোববার রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রকৌশলী মো. সুবক্তগীন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সরজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, টিকিট কাউন্টার, যাত্রী বিশ্রামাগার এবং ট্রেনের কারিগরি সক্ষমতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরতে স্টেশন জনস্রোত হয়ে উঠবে ২৫ মে থেকে। এদিন থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে হবে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রতিদিন ১৬ জোড়া (আসা-যাওয়া ৩২টি) ট্রেনে ১০ হাজার যাত্রী সিটে বসে বাড়ি ফিরতে পারবেন। এছাড়া ট্রেন ছাড়ার ২ ঘণ্টা আগে মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশনের কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন যাত্রীরা।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার অগ্রিম টিকিট শতভাগ অনলাইনে বিক্রি করা হয়েছে। ফলে টিকিট জটিলতা ও স্টেশন এলাকায় বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমেছে। ‘টিকিট যার, ভ্রমণ তার’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করায় টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্ল্যাটফরমে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
নগরের অলংকার,একে খান,বহদ্দারহাট, নতুন ব্রিজ, জিইসি ও কদমতলীসহ বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ভোর থেকেই যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। যাত্রীর তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা কম থাকায় অনেকেই কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাচ্ছেন না। কাউন্টারগুলোতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও টিকিট না পেয়ে কেউ কেউ ফেরত আসা গাড়িতে করে রওনা দিচ্ছেন গন্তব্যে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে যাত্রীর চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ’ আন্তঃজেলা বাস চলাচল করছে, যাতে প্রায় ৪০ হাজারের বেশি যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো ফিরে এলে টিকিট সংকট কিছুটা কমবে বলেও জানান তারা।গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যানজট নিরসন ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতেও প্রশাসন কাজ করছে। এদিকে ঘরমুখো মানুষের স্রোতে ধীরে ধীরে ফাঁকা হয়ে আসছে চট্টগ্রাম নগরী। নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানজট কমবে। ফলে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি নিয়ে চলাচল করছেন।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ ট্রেনকে বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনে করায় সেদিকেই ঝুঁকছেন। আবার কম খরচে দ্রুত পৌঁছাতে অনেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল এমনকি খোলা ট্রাকেও যাত্রা করছেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮শে মে দেশে ঈদুল আযহা উদ্যাপিত হবে। সবমিলিয়ে, ঈদযাত্রার শুরুতেই চট্টগ্রাম থেকে গ্রামে ফেরার হিড়িক পড়েছে। যাত্রীচাপ থাকলেও সময়মতো ট্রেন চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে স্বস্তির যাত্রার প্রত্যাশা করছেন ঘরমুখো মানুষ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, ঈদের সময় অগ্রিম টিকিট, স্পেশাল এবং স্ট্যান্ডিং টিকিট মিলে প্রতিটি ট্রেনে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ ঈদযাত্রা করতে পারবেন। এছাড়া ঈদের দুইদিন আগে থেকে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটসহ বিভিন্ন রুটে স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে।
ট্রেনের যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। শনিবার থেকে এ চাপ আরও বাড়বে। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, আনসার সদস্যসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত স্টেশনে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।







