
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমের অগ্রগতি, ২০২৬ সালের বাজেট এবং এর উন্নয়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনামূলক একটি উচ্চপর্যায়ের পরিচালনা পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় (চীন সময় দুপুর ১টা) ভার্চুয়ালি সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো সংস্কার, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময়সূচি নির্ধারণ এবং উভয় দেশের গবেষকদের সমন্বয়ে ‘চীন গবেষণা কেন্দ্র’ ও ‘বাংলাদেশ গবেষণা কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ভার্চুয়াল সভায় যুক্ত হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান সভায় সংযুক্ত সবাইকে ধন্যবাদ ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আজকের সভাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানজনক। আশা করি, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম শুরু হলে এতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় তথা বাংলাদেশ উপকৃত হবে। এজন্য চাইনিজ কর্তৃপক্ষসহ ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন বন্ধুত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। পরিকল্পনা অনুযায়ী শীঘ্রই সকল কার্যক্রম শুরু করতে পারার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপাচার্য।
সভায় আরও যুক্ত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদ চবির সদস্য চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চবি অফিস ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন ও চবি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
ভার্চুয়াল সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট পরিচালনা পর্ষদের চীনা চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ওয়াং কিলিয়াং। এ ইনস্টিটিউট ও প্রস্তাবিত গবেষণা কেন্দ্রগুলো দুই দেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যৌথ গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ে একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি। তিনি বলেন, এটি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।
সভায় ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. উইকিং (শাও উইকিং)-এর সঞ্চালনায় ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিময় দপ্তরের পরিচালক মিস লিউ চ্যাং, উপ-পরিচালক ড. ওয়াং কুন, অর্থ দপ্তরের পরিচালক মিস্টার চেন চ্যাং এবং লিবারেল আর্টস অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. ওয়াং গুওক্সু পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
সভার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। সভায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের জন্য বাংলাদেশ অংশের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। একই সাথে দুই দেশের পরিচালক এবং শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ যৌথভাবে চবিতে একটি ‘চীন গবেষণা কেন্দ্র’ এবং ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটিতে একটি ‘বাংলাদেশ গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপনের ব্যাপারে ঐকমত্য প্রকাশ করেন, যা দুই দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর উচ্চতর গবেষণার দুয়ার উন্মোচন করবে।
এছাড়া ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক জিয়া ওয়াংউই, হবু চীনা পরিচালক মিস ঝাং কি, এবং লিবারেল আর্টস ও ফিজিক্যাল এডুকেশন অনুষদের মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধিগণ সভায় অংশ নেন। পুরো সভাটি দোভাষী হিসেবে রূপান্তর করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজেসের বাংলা বিষয়ের শিক্ষক মিস গ্যান লুটিং।







